ঢাকা: স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক আতাউর রহমানকে (৮৫) শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত তার মরদেহ শহিদ বেদিতে রাখা হবে।
অভিনয়শিল্পী সংঘ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে জোহরের নামাজ শেষে মগবাজারের ইস্পাহানী সেঞ্চুরি আর্কেডে মরহুমের নিজ বাসভবনের সামনের খোলা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে মরদেহ সরাসরি শহিদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে এই গুণী নাট্যব্যক্তিত্বের দাফন সম্পন্ন করা হবে।
সোমবার (১১ মে) মধ্যরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই নাট্যজন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার নিজ বাসভবনে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান আতাউর রহমান। এরপরই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও আইসিইউ সুবিধা না পাওয়ায় পরে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খোলা হলেও রোববার পুনরায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমান।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করা আতাউর রহমান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক অবিসংবাদিত নেতা। স্বাধীনতা-উত্তর মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তিনি এ দেশের নাট্যাঙ্গনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। মঞ্চনির্দেশনার পাশাপাশি তিনি একজন শক্তিমান অভিনেতা ও লেখক হিসেবেও নন্দিত ছিলেন। নাট্যচর্চায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে একুশে পদক ও দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়।
নাট্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘প্রজাপতি নিবন্ধ’, ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’, ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’ ও ‘লেখনী’। এ ছাড়া অসংখ্য টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দাগ কেটেছে দর্শকদের মনে।





