ক্ষেপণাস্ত্রটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইলদিরিমহান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বা সক্ষমতা ৬,০০০ কিলোমিটার (৩,৭২৮ মাইল)।
‘ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’-এর মতে, যেসব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের (প্রায় ৩,৪১৮ মাইল) বেশি, সেগুলো আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএম হিসেবে গণ্য করা হয়।
তুরস্ক থেকে উৎক্ষেপণ করা হলে এ ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। ইলদিরিমহানের সর্বোচ্চ গতি হবে শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি (ম্যাক ২৫)। এতে চারটি রকেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর জ্বালানি হিসেবে থাকছে লিকুইড নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩ হাজার কেজি ওজনের যুদ্ধাস্ত্র বহন করতে পারবে।
তুরস্ক এখনো এ ক্ষেপণাস্ত্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেনি। গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে আয়োজিত এক প্রদর্শনীতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের বলেন, ‘বর্তমান যুগে যেখানে অর্থনৈতিক ব্যয় একটি বড় ধরনের মারণাস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, সেখানে তুরস্ক তার মিত্রদের শুধু অস্ত্র নয়, বরং প্রযুক্তি ও একটি টেকসই নিরাপত্তাব্যবস্থা উপহার দিচ্ছে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তুরস্কের এ আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘জার্মান মার্শাল ফান্ড’-এর আঞ্চলিক পরিচালক ওজগুর উনলুহিসারসিকলি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমার মতে, এ মুহূর্তে কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করার জন্য তুরস্কের এই আইসিবিএমের প্রয়োজন নেই। তাই ক্ষেপণাস্ত্রটি নয়, বরং এটি তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করাই তুরস্কের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’




