
কাবুল, ২৯ এপ্রিল – আফগান নারী ফুটবলারদের জন্য এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে আফগান নারী শরণার্থী দল আফগান ওমেন ইউনাইটেড।
মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফিফার সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী শরণার্থী দলটি এখন থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার কারণে দলটি ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিতে না পারলেও ২০২৮ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ফুটবল বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাবে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো এক বিবৃতিতে বলেন যে তারা আফগান ওমেন ইউনাইটেডের এই যাত্রায় গর্বিত। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা সেই সব দেশের খেলোয়াড়দের সহায়তা করতে চান যারা নিজ দেশে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
এই স্বীকৃতি আদায়ের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছিলেন আফগান নারী ফুটবলাররা। গত বছরের অক্টোবরে মরক্কোয় আয়োজিত একটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম বড় ধরনের অগ্রগতি আসে।
দলটির এই অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সাবেক অধিনায়ক ও মানবাধিকার কর্মী খালিদা পোপাল। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮০ জন আফগান নারী ফুটবলার শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রতি তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
দলের কোচ পওলিনে হামিল জানিয়েছেন যে আগামী জুন মাসে আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দলটি দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। তবে ম্যাচ দুটির প্রতিপক্ষ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
আফগান নারী ফুটবল দল সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেছিল। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশটিতে নারীদের সব ধরনের খেলাধুলা নিষিদ্ধ করা হয়।
ফিফার এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিকূলতার মাঝে থাকা ফুটবলারদের জন্য নতুন একটি আশার আলো তৈরি হয়েছে।
এনএন/ ২৯ এপ্রিল ২০২৬






