টাইটানিক ডুবার শেষ ৬.৩ সেকেন্ড নিয়ে নতুন রহস্য উন্মোচন | চ্যানেল আই অনলাইন

টাইটানিক ডুবার শেষ ৬.৩ সেকেন্ড নিয়ে নতুন রহস্য উন্মোচন | চ্যানেল আই অনলাইন

আধুনিক থ্রিডি স্ক্যান প্রযুক্তির সাহায্যে ঐতিহাসিক জাহাজ ‘আরএমএস টাইটানিক’-এর ধ্বংসাবশেষের সবচেয়ে বিস্তারিত ডিজিটাল চিত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এতে ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিলের সেই মর্মান্তিক ডুবির শেষ মুহূর্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

গবেষকরা জানান, উন্নত আন্ডারওয়াটার স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি এই ডিজিটাল মডেল টাইটানিকের শেষ মুহূর্ত সম্পর্কে অভূতপূর্ব ধারণা দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের নৌ-স্থাপত্য বিভাগের গবেষক সাইমন বেনসন জানান, সিমুলেশন অনুযায়ী, বরফখণ্ডের সঙ্গে টাইটানিকের সংঘর্ষটি মাত্র ৬.৩ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।

এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে ‘Titanic: The Digital Resurrection’ নামের একটি নতুন প্রামাণ্যচিত্রে, যা ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে সম্প্রচারিত হবে।

প্রায় দুই বছর ধরে পরিচালিত এই প্রকল্পে ৭ লাখ ১৫ হাজারের বেশি ডিজিটাল ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব ছবি ব্যবহার করে টাইটানিকের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ডিজিটাল টুইন’ তৈরি করা হয়েছে, যা জাহাজের ক্ষুদ্রতম রিভেট পর্যন্ত নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করে।

গবেষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে তথ্যটি উঠে এসেছে, তা হলো জাহাজের ফার্স্ট অফিসার উইলিয়াম মারডক-এর ভূমিকা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, তিনি দায়িত্ব ত্যাগ করেছিলেন। তবে নতুন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনি আসলে লাইফবোট নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এই তথ্য টাইটানিকের সেকেন্ড অফিসার এবং দুর্যোগ থেকে বেঁচে যাওয়া সর্বোচ্চ পদমর্যাদার ক্রু চার্লস লাইটোলার-এর আগের সাক্ষ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, মারডক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উদ্ধারকাজে সক্রিয় ছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের এই ডিজিটাল মানচিত্র সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্বে একটি বড় অগ্রগতি। এর মাধ্যমে গবেষকরা যেন জাহাজটির ভেতরে সরাসরি হেঁটে দেখার মতো অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, প্রামাণ্যচিত্রটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে সম্প্রচারের পর স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হুলু ও ডিজনি প্লাসেও দেখা যাবে।

Scroll to Top