আশা ভোঁসলে ও লতা মঙ্গেশকর সঙ্গীত জগতের ২জন উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে লতা মঙ্গেশকর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তাদের পিতা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন একজন বিখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী এবং থিয়েটার ব্যক্তিত্ব। ৪ বছরের ছোট বোন আশা ছিল লতার ন্যাওটা। লতা স্কুলে যাওয়ার সময় আশাকে নিয়ে যেত সে জন্য স্কুল তাকে ছোট বোনকের আনার বিষয়ে না করায় ছাড়তে হয়েছিল তার পড়াশোনা। থেমে থাকা লতা ১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার ভাই-বোন ও বিধবা মায়ের ভরণপোষণের জন্য বাধ্য হয়ে সংগীতে কর্মজীবন শুরু করেন। কারণ তাদের বাবা দীননাথের অকাল মৃত্যু হয় মাত্র ৪২ বছর বয়সে।
১৯৪২ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘কিতি হাসাল’এর মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয়, যদিও তার গাওয়া প্রথম গানটি শেষ পর্যন্ত মূল ছবিতে রাখা হয়নি। ১৯৪৯ সালে ‘মহল’ চলচ্চিত্রের ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গানটি তাকে রাতারাতি খ্যাতি এনে দেয়। আশা পরিবারের ভরণপোষণ এবং বড় বোন লতাকে অনুসরণ করে মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে শুরু করে তার মারাঠি ছবি ‘মাঝা বল’ (Majha Bal)-এ তার প্রথম গান ‘চল চল নব বল’ রেকর্ড করেন। এবং হিন্দি চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৪৮ সালে ‘চুনারিয়া’ ছবির মাধ্যমে। কিন্তু এই ভালোবাসায় চির ধরলো বোন আশা যখন ১৬ বছর বয়সে দিদি লতার ম্যানেজার গণপতরাও ভোসলের প্রেমে পড়ে পরিবারের অমতে বাড়ি ছেড়ে বিয়ে করেন। তবে সেই সংসার জীবন বেশিদিন স্থায়ী হলোনা। পারিবারিক অশান্তি ও ঝামেলায় শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে তিনি আবার চলে আসেন তার বাবার বাড়ি। সেই সময় দিদি লতা মঙ্গেশকর তার রাগ ভুলে আবার বোনকে কাছে টেনে নেন।
জীবনের শেষ দিনগুলোতে আশা লতাকে তার ‘মাতৃসম’ ও ‘গুরু’ বলে মানতেন
তবে এই রাগ কমলেও কিছুটা প্রতিযোগিতা শুরু হয় সঙ্গীত জগতে। লতা ও আশার গলা ছিল একইরকম। তাই আশা ভোঁসলে তার গলার স্বর এবং গায়কী শৈলী পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ ছিল দিদি লতা মঙ্গেশকরের প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করার জন্য। সবার আড়ালে একটা ঠান্ডা যুদ্ধের ভেতর দিয়ে গেছে তাদের সঙ্গীত জগতে।
তবে জীবনের শেষ দিনগুলোতে আশা লতাকে তার ‘মাতৃসম’ ও ‘গুরু’ বলে মানতেন। লতা নিজেও বোন আশার বহুমুখী কণ্ঠের প্রশংসা করতেন।
লেখক: ফিচার রাইটার




