ঢাকা, ৩১ মার্চ – বাংলাদেশ সার্ফিং দল ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী ২০২৬ সালে জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সার্ফাররা সরাসরি সার্ফিং ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভারতের তামিলনাড়ুতে গত ৩ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চতুর্থ এশিয়ান সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে এই ঐতিহাসিক সাফল্য আসে। দীর্ঘ ৯ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশসহ এশিয়ার মোট ১৮টি দেশ অংশগ্রহণ করে।
প্রতিযোগিতায় দুজন নারীসহ পাঁচজন বাংলাদেশি সার্ফার অংশ নেন। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জাপান ও কুয়েতসহ একাধিক দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সার্ফার হাসান, মান্নান, ইউনুস, মিলি ও ফাতেমার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ নবম স্থান অর্জন করে। এই ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের সার্ফিং ইভেন্টে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায় বাংলাদেশ। সার্ফার মোহাম্মদ হাসান জানান, এশিয়ার ১৮টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নবম স্থান অর্জন করা তাদের জন্য একটি অনেক বড় অর্জন। তাদের বর্তমান লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে ভালো পারফরম্যান্স করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরা
। ইতিমধ্যে কোচের তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। নারী সার্ফার ফাতেমা আক্তার জানান, তিনি গত ছয় বছর ধরে সার্ফিং করছেন এবং আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা ছিল। ভারতের পয়েন্ট ব্রেক ঢেউয়ের তুলনায় কক্সবাজারের বিচ ব্রেক ঢেউ কিছুটা ভিন্ন হলেও তারা দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে দেশের পতাকা আরও উঁচুতে ওড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ফাতেমা। আরেক নারী সার্ফার মহিমা আক্তার মিলি জানান, এটি ছিল তার প্রথম আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ।
এই অভিজ্ঞতা তাকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বাংলাদেশ দলের কোচ রাশেদ আলম এই অর্জনকে দেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বলে অভিহিত করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্ফারদের দক্ষতা আরও উন্নত করা হবে। দলনেতা মো. সাইফুল্লাহ সিফাত জানান, নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সার্ফিং ফেডারেশনের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী জানান, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সার্ফাররা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে এই খেলাকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং তা অনুমোদিত হলে সার্ফারদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জাপানের নাগোয়ায় ২০তম এশিয়ান গেমস অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সার্ফাররা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।
এস এম/ ৩১ মার্চ ২০২৬



