তেহরান, ২৯ মার্চ – হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন ইরানের সামরিক বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। একইসঙ্গে ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই ইরানি কমান্ডার জানিয়েছেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী মার্কিন সৈন্যদের তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছে। সীমার মধ্যে এলেই উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতা ও সামরিক মহড়ার মুখে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং ওমান উপসাগর বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত একটি সমুদ্রপথ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতের মতো বড় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো এই পথের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। এর একপাশে ইরান এবং অন্যপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। প্রণালিটির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত হওয়ায় এটি সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ।
ইরান যদি এই পথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে যা বৈশ্বিক মন্দার কারণ হতে পারে।
এনএন/ ২৯ মার্চ ২০২৬





