হরমুজের তিন দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

হরমুজের তিন দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র | চ্যানেল আই অনলাইন

হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে অবস্থিত তিনটি দ্বীপ দখলের সম্ভাব্য পরিকল্পনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।

আবু মুসা, গ্রেটার টুনব ও লেসার টুনব—এই তিনটি দ্বীপ প্রণালীর প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এগুলো ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতও দ্বীপগুলোর দাবি করে আসছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দ্বীপগুলো দখলের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানোর উপায় খতিয়ে দেখছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশল

পেন্টাগন সম্ভাব্য “চূড়ান্ত আঘাত” হিসেবে এই দ্বীপগুলো দখলের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে যুক্তরাষ্ট্র সহজেই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং নৌ-অভিযানে সুবিধা পাবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শুধুমাত্র দ্বীপ দখল করলেই ইরানের হুমকি পুরোপুরি শেষ হবে না। কারণ ইরান মূল ভূখণ্ড থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌবাহিনী ব্যবহার করে আক্রমণ চালাতে সক্ষম।

বিরোধ ও সম্ভাব্য সংঘাত

ইরান ১৯৭১ সালে এই দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুপক্ষ কোনো দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি—মেরিন, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন—এই অঞ্চলে সম্ভাব্য বড় ধরনের অভিযানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জ্বালানি বাজারে প্রভাব

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে এই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই দ্বীপগুলো ঘিরে সংঘাত আরও বাড়ে, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

Scroll to Top