ব্রাসিলিয়া, ২০ মার্চ – মেয়েদের ফুটবলে নতুন একটি যুগান্তকারী নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী ফিফা আয়োজিত মেয়েদের ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রতিটি দলের কোচিং স্টাফে অন্তত একজন নারী প্রধান কোচ বা সহকারী কোচ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব ১৭ এবং অনূর্ধ্ব ২০ নারী বিশ্বকাপ এবং নারী চ্যাম্পিয়ন্স কাপ প্রতিযোগিতা থেকে এই নিয়মের প্রয়োগ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় কোচিং পেশায় নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নতুন এই নীতিমালায় বলা হয়েছে যে ম্যাচ চলাকালীন প্রতিটি দলের বেঞ্চে থাকা স্টাফ সদস্যদের মধ্যে অন্তত দুজন নারী হতে হবে।
এর মধ্যে একজনকে অবশ্যই সহকারী কোচ বা প্রধান কোচের দায়িত্বে থাকতে হবে। এই নিয়মটি ক্লাব ফুটবল এবং জাতীয় দলসহ বয়সভিত্তিক ও সিনিয়র পর্যায়ের সকল টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখ্য যে ২০২৩ সালের মেয়েদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৩২টি দলের মধ্যে মাত্র ১২টি দলের প্রধান কোচ ছিলেন নারী, যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ইংল্যান্ড দলের কোচ সারিনা উইগম্যান। ফিফার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা জিল এলিস এই প্রসঙ্গে জানান বর্তমানে কোচিং পেশায় নারীদের সংখ্যা যথেষ্ট নয়।
নতুন এই নিয়ম নারীদের জন্য একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি করবে এবং মাঠের বাইরেও তাদের দৃশ্যমানতা ও সুযোগ বৃদ্ধি করবে। ফিফা তাদের এই নতুন নীতিমালা এবং লক্ষ্যভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোকে নারী কোচদের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সংস্থার প্রত্যাশা নতুন এই নিয়মের ফলে কোচিংয়ে নারী প্রতিনিধিত্ব উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে যা ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৭ সালের মেয়েদের বিশ্বকাপে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।
এ এম/ ২০ মার্চ ২০২৬





