নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে টাকা ফেরত চেয়েছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য – DesheBideshe

নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে টাকা ফেরত চেয়েছিল আন্ডারওয়ার্ল্ড, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য – DesheBideshe

মুম্বাই, ১৬ মার্চ – বলিউডের এক অন্ধকার অতীত সাম্প্রতিক সময়ে পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অভিনেতা ও লেখক এম এম ফারুকী যিনি লিলিপুট নামে পরিচিত তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন এক সময় তার একটি সিনেমাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন সরাসরি প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছিল। এই ঘটনার নেপথ্যে ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিমের প্রভাব ছিল বলে জানা যায়। আশির ও নব্বইয়ের দশকে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প এক চরম অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে সে সময় উঠে আসে যে বিভিন্ন অপরাধী চক্র চলচ্চিত্রে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ করত। বিশেষ করে দাউদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ডি-কোম্পানির নাম প্রায়ই উচ্চারিত হতো। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা এবং অন্যান্য শিল্পীরা তখন বিদেশ থেকে ফোনে নিয়মিত হুমকি পেতেন। কখনো কখনো চাঁদা দাবি বা হামলার ঘটনাও সংঘটিত হতো যা গোটা বলিউডে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছিল। লিলিপুট জানান তিনি একসময় একটি সিনেমা তৈরি করছিলেন যার একটি বড় অংশের অর্থ আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে এসেছিল বলে পরে জানা যায়। দুর্ভাগ্যবশত ছবিটি প্রত্যাশামতো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।

তখনই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সদস্যরা নাসিরুদ্দিন শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করে যে তিনি কাজের জন্য যে অগ্রিম অর্থ পেয়েছিলেন তা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে। লিলিপুটের ভাষ্যমতে নাসিরুদ্দিন শাহ এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়ে অত্যন্ত বিব্রত হয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেনই না যে ওই চলচ্চিত্রের অর্থায়নে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কোনো চক্র জড়িত রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে বলিউডের অনেক জনপ্রিয় অভিনেতার অভিজ্ঞতাই এমন ছিল যেখানে প্রযোজকের অর্থের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকতেন। লিলিপুট অকপটে স্বীকার করেন যে ওই সময় তিনি ভুল প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করেছিলেন।

বলিউডে তখন এমন অনেক ব্যক্তি ঘুরে বেড়াতেন যাদের মূল উদ্দেশ্য সবসময় পরিষ্কার ছিল না। নতুন নির্মাতাদের জন্য এটি বোঝা অত্যন্ত কঠিন ছিল যে কোন প্রযোজক বৈধ ব্যবসায়ী আর কে সরাসরি অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্লেষকদের মতে নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং দুই হাজারের দশকের শুরুতে করপোরেট বিনিয়োগ ও স্টুডিও ব্যবস্থার প্রসারের ফলে চলচ্চিত্রে অবৈধ অর্থের প্রভাব অনেকটাই কমে এসেছে। লিলিপুটের এই মন্তব্য পুরনো সময়ের সেই ভয় চাপ এবং অপরাধজগতের গভীর প্রভাবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় যা একসময় গ্ল্যামার ও তারকাখ্যাতির আড়ালে প্রতিনিয়ত ঘটত।

এস এম/ ১৬ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top