উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার কন্যা কিম জু অ্যা-কে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বেঁছে নিতে পারেন—এমন তথ্য জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা। তারা দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএস) এক গোপন ব্রিফিংয়ের বরাতে এ তথ্য জানান। ধারণা করা হচ্ছে, কিম জং উন তার কিশোরী কন্যাকে দেশের চতুর্থ প্রজন্মের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতা লি সিওং-কুয়েন সাংবাদিকদের জানান, আগে এনআইএস কিম জু অ্যাকে ‘উত্তরসূরি হিসেবে অধ্যয়ন পর্যায়ে’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। তবে সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, তিনি এখন ‘অভ্যন্তরীণভাবে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনয়নের পর্যায়ে’ আছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টি-এর বৈঠকে কিম জু অ্যা উপস্থিত থাকেন কি না এবং সেখানে তাকে কীভাবে উপস্থাপন করা হয় বিশেষ কোনো উপাধি দেওয়া হয় কি না তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এনআইএস।
কিম জু অ্যা কে?
ধারণা করা হয়, কিম জু অ্যার বয়স প্রায় ১৩ বছর। ২০১৩ সালে মার্কিন বাস্কেটবল তারকা ডেনিস রডম্যান উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ং সফর করলে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসী তার সম্পর্কে জানতে পারে।
ব্রিটিশ পত্রিকা দ্যা গারডিয়েন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রডম্যান জানান, তিনি কিমের শিশু কন্যা জু অ্যাকে কোলে নিয়েছিলেন এবং কিমের স্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম জং উনের তিন সন্তান রয়েছে এবং জু অ্যা তাদের মধ্যে মেজো সন্তান। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
২০২২ সালে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা যায় কিম জু অ্যাকে। এরপর থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাবার পাশে তাকে একাধিকবার দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
গত জানুয়ারিতে বড়-ক্যালিবার মাল্টিপল রকেট লঞ্চ সিস্টেমের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণেও তিনি কিম জং উনের পাশে ছিলেন। সেপ্টেম্বরে, ধারণা করা হয় প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে তিনি সাঁজোয়া ট্রেনে করে বেইজিং যান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সামরিক কুচকাওয়াজে অংশ নিতে।
বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সাধারণ কিশোরীদের জন্য লম্বা চুল রাখা নিষিদ্ধ হলেও কিম জু অ্যাকে প্রায়ই লম্বা চুলে দেখা যায়। এছাড়া তাকে দামী ডিজাইনার পোশাকে দেখা গেছে, যা দেশটির অধিকাংশ মানুষের নাগালের বাইরে।
নারী নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক
উত্তর কোরিয়ায় প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক রীতিনীতির কারণে আগে অনেক বিশেষজ্ঞ ও দেশত্যাগীরা মনে করতেন, সেখানে নারী নেতৃত্বের সম্ভাবনা কম। তবে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং বর্তমানে কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা এ ধারণা থেকে কিছুটা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে।
তবে তুলনামূলকভাবে সুস্থ ও সক্রিয় কিম জং উন কেন এখনই তার কিশোরী কন্যাকে উত্তরসূরি হিসেবে মনোনয়ন দিচ্ছেন—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
১৯৪৮ সালে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তর কোরিয়া কিম পরিবারভুক্ত পুরুষ সদস্যদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল-সাং, এরপর তার পুত্র কিম জং-ইল এবং বর্তমানে তার নাতি কিম জং উন ক্ষমতায় রয়েছেন।





