গাজা উপত্যকা, ১১ ফেব্রুয়ারি – ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও গাজা উপত্যকায় দুই বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মাঠে গড়িয়েছে ফুটবল। চারদিকে যখন কেবল ধ্বংসস্তূপ আর স্বজন হারানোর হাহাকার, তখন এই খেলা সেখানকার মানুষের মনে কিছুটা হলেও প্রাণের সঞ্চার করেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় ‘ফাইভ-এ-সাইড’ নামক একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
ইট-পাথরের জঞ্জাল আর ধসে পড়া ভবনের মাঝেই জরাজীর্ণ মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল জাবালিয়া ইয়ুথ ও আল-সাদাকা। ম্যাচটি ড্রতে শেষ হলেও গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের উৎসাহে কোনো কমতি ছিল না। ‘প্যালেস্টাইন পিচ’ এর ভাঙা বেড়ার পাশ থেকেই তারা উল্লাসে মেতে ওঠেন। জাবালিয়া ইয়ুথের ২১ বছর বয়সী ফুটবলার ইউসুফ জেন্দিয়া নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জানান, তার নিজের বাড়িও ইসরায়েলি বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনুভূতিটা মিশ্র; দ্বিধা, আনন্দ ও বেদনার সংমিশ্রণ। সকালে মানুষ যখন পানি ও রুটির সন্ধানে বের হয়, তখন জীবনটা খুব কঠিন মনে হয়। তবে দিনের শেষে মাঠে এসে ফুটবল খেলতে পারাটা আমাদের ভেতরের আনন্দকে কিছুটা হলেও প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়। তবে খেলার মাঠে এসে অনেক সতীর্থকে না পেয়ে বেদনাহত হন ইউসুফ, কারণ তাদের অনেকেই হামলায় নিহত বা আহত হয়েছেন।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য একটি ক্ষতিগ্রস্ত মাঠের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে, নতুন করে বেড়া দিয়ে এবং পুরনো টার্ফ পরিষ্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলে। বেইত হানুনের ৩১ বছর বয়সী খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা বলেন, ধ্বংসযজ্ঞ ও যুদ্ধের ভয়াবহতা সত্ত্বেও তারা হার মানতে রাজি নন। খেলার মাধ্যমে তারা বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চান যে, জীবন কখনোই থেমে থাকে না।
এসএএস/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬





