ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ডাবলিন রেগুলেশনের নতুন সংস্করণ অনুমোদন করেছেন ইইউ নেতারা। এর ফলে এক দেশে নিবন্ধিত হলে অন্য কোনো ইইউ দেশে নতুন করে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ আর থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বিশেষ ইইউ লিডারদের বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আশ্রয়প্রার্থী যদি একটি ইইউ দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদান করেন বা ইউরোড্যাকসহ ইইউর কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে নিবন্ধিত হন, তাহলে তিনি অন্য কোনো ইইউ দেশে গিয়ে নতুন করে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন না। পরবর্তীতে অন্য দেশে আশ্রয়ের আবেদন করলে তাকে সরাসরি প্রথম নিবন্ধিত দেশেই ফেরত পাঠানো হবে।
ইইউ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি মুভমেন্ট’—এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসীদের অনিয়মিত স্থানান্তর—বন্ধ করা। একই সঙ্গে আশ্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করাও এই সংস্কারের লক্ষ্য।
ইইউ কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, একই ব্যক্তি একাধিক দেশে আশ্রয়ের আবেদন করে পুরো ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কোন দেশের ওপর আশ্রয়প্রার্থীর দায় বর্তাবে, তা আরও স্পষ্ট হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ডাবলিন রেগুলেশন কার্যকর হলে ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো ভূমধ্যসাগরীয় সীমান্তবর্তী দেশগুলো আরও বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে। কারণ অধিকাংশ অভিবাসী প্রথমে এসব দেশ দিয়েই ইউরোপে প্রবেশ করেন এবং সেখানেই তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়। যদিও ইইউ নেতারা বলছেন, সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ওপর চাপ কমাতে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এদিকে নতুন নীতিকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের মানবিক ও আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার মুখপাত্র বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রথম প্রবেশকারী দেশগুলোতে আশ্রয় ব্যবস্থার মান দুর্বল। সেখানে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
নতুন সিদ্ধান্তের খবরে ইউরোপজুড়ে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রত্যাশীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, একবার ভুলবশত কোনো দেশে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিলে ভবিষ্যতে ইউরোপে আশ্রয়ের সব সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইইউ সূত্র জানিয়েছে, নতুন ডাবলিন রেগুলেশন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ইউরোপজুড়ে অভিবাসন ও আশ্রয়নীতিতে উল্লেখযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসবে।





