যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। তবে মস্কো তা উড়িয়ে দিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ভারত যে কোনো দেশ থেকে তেল কিনতে স্বাধীন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পেসকভ জানান, রাশিয়ার তেল ভারতের একমাত্র উৎস নয়। ভারত সবসময়ই অন্যান্য দেশ থেকেও তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনে আসছে।
এক দিন আগে পেসকভ জানান, ভারত এখনও রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছিলেন, ভারতের রাশিয়ান হাইড্রোকার্বন ক্রয় দুই দেশের জন্যই উপকারী এবং আন্তর্জাতিক শক্তি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক। আমরা ভারতের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।
২০২১ সালের আগে ভারতের মোট তেলের মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশই রাশিয়ার তেল ছিল। তবে ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোকে এড়িয়ে গেলে, ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে। বর্তমানে ভারতের মোট তেলের প্রায় ৮৮ শতাংশ আমদানি থেকে আসে, যার এক-তৃতীয়াংশই রাশিয়ার।
ট্রাম্প ২০২৫ সালে ভারতের উপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে রাশিয়ান শক্তি পণ্যের জন্য ২৫ শতাংশ শুল্কও ছিল। এর ফলে জানুয়ারির প্রথম তিন সপ্তাহে ভারতের রাশিয়ান তেলের আমদানি প্রায় ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক হয়ে যায়, যা আগে ১ দশমিক ২১ মিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি ছিল।
জাতীয় শক্তি নিরাপত্তা তহবিলের বিশেষজ্ঞ ইগর ইউশকভ জানান, ভারতের তেলশিল্প রাশিয়ান তেলের আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারবে না। কারণ আমেরিকার শেল তেল হালকা, রাশিয়ার ইউরালস তুলনামূলকভাবে ভারী ও সালফার সমৃদ্ধ। সোজা পরিবর্তন সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেছেন, ট্রাম্প হয়তো কেবল বাণিজ্য আলোচনা জিতেছেন বলে প্রদর্শন করতে চাইছেন।
ইউশকভ স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউরোপ ও মার্কিন বাজার থেকে ভারতের দিকে সরব হয়, তখন দৈনিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন কমিয়ে দেয়, যা তেলের দাম ১২০ ডলার প্রতি ব্যারেলে উন্নীত করেছিল।






