নয়াদিল্লি, ২ ফেব্রুয়ারি – আধুনিক ক্রিকেট অর্থনীতিতে কিছু ম্যাচ ট্রফির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি তেমনই একটি উদাহরণ। এটি কেবল টুর্নামেন্টের সূচির সাধারণ কোনো খেলা নয় বরং পুরো আসরের আর্থিক চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সম্প্রচার স্বত্ব এবং বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে স্পনসরশিপ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই একটি ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার সমান।
ভারত ও পাকিস্তানের এই টি-টোয়েন্টি লড়াই সম্প্রচারকারীদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ বা ক্রাউন জুয়েল হিসেবে গণ্য হয়। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাত্র ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের মূল্য সাধারণত ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৩ থেকে ৫৩ লাখ টাকার মতো হয়ে থাকে যা অন্য যেকোনো ম্যাচের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ধারণা করা হয় যে কেবল বিজ্ঞাপন খাত থেকেই এই ম্যাচ ঘিরে প্রায় ৩০০ কোটি রুপি বা ৪০০ কোটি টাকা আয় সম্ভব।
যদি কোনো কারণে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত না হয় তবে পুরো টুর্নামেন্টের আর্থিক কাঠামো বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
জানা গেছে যে সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ইতিমধ্যেই সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের বা আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের গড় মূল্য প্রায় ১৩৮ কোটি ৭০ লাখ রুপি বা ১৮৩ কোটি টাকার মতো ধরা হয়। অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং দর্শকদের আবেগের জায়গা থেকে এই ম্যাচ বাতিল হওয়া মানে আয়ের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগা। এটি কেবল সময়সূচির পরিবর্তন নয় বরং বড় অঙ্কের আর্থিক চুক্তির ক্ষতি। এর ফলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও বিপাকে পড়তে পারে।
সম্প্রচারকারীরা যদি আইসিসির কাছে অর্থ ফেরত চায় তবে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সদস্য বোর্ডগুলোর রাজস্ব বণ্টনে। বিশেষ করে আইসিসির সহযোগী দেশ এবং ছোট পূর্ণ সদস্য দেশগুলো এতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ম্যাচটি না হলে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০০ কোটি রুপি করে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এর বাইরে হাজারো দর্শক রয়েছেন যারা ম্যাচের টিকিট এবং যাতায়াতের জন্য অর্থ খরচ করেছেন তাদের ব্যক্তিগত ক্ষতিও অপূরণীয়।
ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ এখন আর শুধু খেলার মাঠে সীমাবদ্ধ নেই এটি বিশ্ব ক্রিকেটের অর্থনীতির মূল স্তম্ভে পরিণত হয়েছে।
এনএন/ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬







