মধ্যবর্তী নির্বাচনে রক্তস্নানের আশঙ্কা: ট্রাম্প ও ক্রুজের গোপন ফোনালাপ ফাঁস | চ্যানেল আই অনলাইন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রক্তস্নানের আশঙ্কা: ট্রাম্প ও ক্রুজের গোপন ফোনালাপ ফাঁস | চ্যানেল আই অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তোলপাড় শুরু হয়েছে একটি ফাঁস হওয়া গোপন অডিও রেকর্ড নিয়ে। নিজ দলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাব্য বিপর্যয় নিয়ে সতর্ক করতে গিয়ে চরম অপদস্থ হয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করায় ট্রাম্প তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের হাতে আসা ওই গোপন রেকর্ডিং অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবি বা ‘রক্তস্নানের’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ক্রুজ। এর জবাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প তাকে অশ্লীল ভাষায় ধিক্কার জানান।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এই শুল্ক নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, সিনেটর টেড ক্রুজ তহবিল জোগানদাতাদের একটি ঘরোয়া বৈঠকে বলছেন যে তিনি প্রেসিডেন্টকে সরাসরি সতর্ক করেছিলেন।

ক্রুজ ট্রাম্পকে বলেছিলেন, মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমরা যদি ২০২৬ সালের নভেম্বরে এমন অবস্থায় পৌঁছাই যেখানে মানুষের অবসরকালীন সঞ্চয় বা পেনশন তহবিল ৩০ শতাংশ কমে গেছে এবং সুপারমার্কেটে পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেড়ে গেছে, তবে নির্বাচনের দিন আমাদের জন্য রক্তস্নান অপেক্ষা করছে। আপনি প্রতিনিধি পরিষদ হারাবেন, সিনেট হারাবেন এবং আগামী দুই বছর আপনাকে প্রতি সপ্তাহে অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে। ক্রুজ জানান, এই বাস্তব চিত্র তুলে ধরার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন এবং চিৎকার করে গালিগালাজ শুরু করেন।

ক্রুজের এই শঙ্কা অমূলক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬৪ শতাংশ মানুষ। ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন অর্থনীতির দুরবস্থা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন।

কেবল ট্রাম্প নয়, ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংয়ে ক্রুজ কঠোর সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং রক্ষণশীল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের। ক্রুজ অভিযোগ করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স মূলত টাকার কার্লসনের হাতের পুতুল।

তিনি বলেন, টাকারই জেডিকে তৈরি করেছেন, তারা একে অপরের প্রতিচ্ছবি।

ক্রুজের দাবি, ভ্যান্স এবং কার্লসন মিলে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজকে প্রশাসন থেকে বের করে দিয়েছেন। কারণ, ওয়াল্টজ ইরানের ওপর কঠোর সামরিক পদক্ষেপ বা বোমা হামলার পক্ষে ছিলেন, যা ভ্যান্স ও কার্লসন গোষ্ঠী সমর্থন করেনি। এই ঘটনা রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফাটলকেও প্রকাশ্যে এনেছে।

রেকর্ডিংটি ফাঁস হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হলে সিনেটর ক্রুজের কার্যালয় থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সিনেটর ক্রুজ সিনেটে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় মিত্র। তিনি প্রেসিডেন্টের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রতিদিন লড়াই করে যাচ্ছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা প্রশাসনের ভেতরে থেকে প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্রনীতির বিরোধিতা করছে, তাদের বিরুদ্ধেই ক্রুজের লড়াই। এই ফাঁস হওয়া তথ্যকে বিভেদ সৃষ্টির ব্যর্থ ও বিরক্তিকর চেষ্টা বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে মুদ্রাস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, অন্যদিকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের এই বাকবিতণ্ডা রিপাবলিকান শিবিরে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে।

Scroll to Top