মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিই’র চলমান অভিযানের প্রতিবাদে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। শুক্রবার তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ দেশটির রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিই-র অভিযানের বিরোধিতা করে আয়োজকরা সাধারণ মানুষকে কাজ, স্কুল ও কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মিনেসোটার বিভিন্ন শহরে রেস্তোরাঁ, ট্যাটু পার্লার, খেলনার দোকানসহ নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে পরিচালিত আইসিই অভিযান ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রশাসনের দাবি, এই অভিযান জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধভাবে বসবাসকারী অপরাধীদের বহিষ্কারের লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকায় অভিবাসী এমনকি মার্কিন নাগরিকদেরও আটক করা হচ্ছে।
শুক্রবার মিনিয়াপলিস বিমানবন্দরে আইসিইর গ্রেপ্তারকৃত বন্দীদের পরিবহনে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোর সহযোগিতা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন প্রায় ১০০ জন ধর্মযাজক। পরে জননিরাপত্তা ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর আওতায় হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এই অভিযানের মধ্যেই চলতি মাসের শুরুতে মিনিয়াপলিসের ৩৭ বছর বয়সী নারী রেনি গুড হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ফেইথ ইন অ্যাকশন সংগঠনের নেতা বিশপ ডোয়াইন রয়স্টার বলেন, আমরা মিনেসোটা থেকে আইসিই-কে বের করে দিতে চাই। তাদের চরম অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শক্ত ভূমিকা প্রয়োজন। শুক্রবারের বিক্ষোভকে মিনেসোটার বর্তমান অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাইনাস ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও হাজারো মানুষ শহরের কেন্দ্রস্থল দিয়ে মিছিল করেন। মিনেসোটা টিম্বারউলভসের হোম কোর্টে অবস্থিত এনবিএ এরিনায় আইসিই-বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কোরি ল্যাম্ব সংহতি জানিয়ে তার প্রতিষ্ঠান ‘হ্যারিয়েট গ্রোভ বোটানিক্যালস’ বন্ধ রেখে বিক্ষোভে অংশ নেন। তিনি বলেন, আইসিই-র অভিযান শুধু নৈতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি।
একই মত প্রকাশ করেন মিনিয়াপলিসের ছয়টি রেস্তোরাঁর মালিক কিম বার্টম্যান। তিনি জানান, আইসিই অভিযানের কারণে তার রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি গত তিন সপ্তাহে ৩০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। অনেক কর্মচারী বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাড়ি ছাড়তে ভয় পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে কলম্বিয়া হাইটস এলাকার চার শিক্ষার্থীকে আইসিই আটক করেছে বলে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এছাড়া, দক্ষিণ মিনিয়াপলিসে এক অ-নথিভুক্ত অভিবাসীর সঙ্গে তার দুই বছর বয়সী শিশুকেও আটক করার অভিযোগ উঠেছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বক্তব্যে মিনেসোটার স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে অভিবাসন আইন কার্যকরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের আহ্বান জানান। তবে মিনেসোটা ও এর কয়েকটি শহরে থাকা ‘অভয়ারণ্য নীতি’ আইসিইর সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
এদিকে, রেনি গুড হত্যাকাণ্ডের তদন্ত পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে মিনিয়াপলিসের একজন এফবিআই এজেন্ট পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তদন্ত বন্ধ বা পুনর্বিবেচনার জন্য চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া মিনিয়াপলিসের মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের অন্তত ছয়জন প্রসিকিউটরও একই কারণে পদত্যাগ করেছেন।







