মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা | চ্যানেল আই অনলাইন

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক-এ তল্লাশি চলাকালীন তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই মামলা করা হয়েছে।

সোমবার ১২ জানুয়ারি বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইডির অভিযোগ, তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত হয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও বৈদ্যুতিন প্রমাণ সরিয়ে নিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে ইডি আগেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। এবার সেই একই অভিযোগে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলো কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

আইন বিষয়ক নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট বার অ্যান্ড বেঞ্চ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইডি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছে— তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র বিরুদ্ধে যেন কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই আবেদন তারা কলকাতা হাই কোর্টেও করেছিল।

এছাড়াও ইডি হাই কোর্টে আবেদন করেছে, আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতর থেকে যেসব নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে গিয়েছিলেন, সেগুলি যেন ফেরত দেওয়া হয়। কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া এই দুটি মামলার শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে একটি ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে, যাতে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে কোনো একতরফা রায় না দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি ইডি তল্লাশি চালায় আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে। ইডির দাবি, কয়েক বছর পুরনো কয়লা পাচার ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে আই-প্যাকের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

তল্লাশি চলাকালীন হঠাৎই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছু সময় পর তিনি একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ওই ফাইলে তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত নথি ও একটি হার্ডডিস্ক রয়েছে।

এরপর আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি চলাকালীন প্রায় চার ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেও একাধিক ফাইল নিয়ে তাঁকে গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।

পরদিন এক জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন হিসেবে তিনি যা করেছেন, তা সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত। এই ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

Scroll to Top