সুদানের কর্দোফানে আরএসএফের হামলায় নিহত ১৬ | চ্যানেল আই অনলাইন

সুদানের কর্দোফানে আরএসএফের হামলায় নিহত ১৬ | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

সুদানের যুদ্ধবিধ্বস্ত কর্দোফান অঞ্চলের একটি অবরুদ্ধ শহরে আরএসএফের হামলায় অন্তত ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। দেশটির নৃশংস গৃহযুদ্ধ তৃতীয় বছরে প্রবেশ করায় বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, মেডিকেল মনিটরিং গ্রুপ সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে টানা দুই দিন দক্ষিণ কর্দোফানের ডিলিং শহরের আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ চালায় র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও তাদের মিত্ররা। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক বাসিন্দাও রয়েছেন। সংগঠনটি এই হামলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার উদাহরণ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

ডিলিংয়ে হামলাটি কর্দোফানজুড়ে ক্রমবর্ধমান সহিংসতারই অংশ। ডিসেম্বরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই অঞ্চলে একশ’র বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম দারফুর থেকে সংঘাত ধীরে ধীরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় কর্দোফানে সরে আসছে, যা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সহিংসতার ফলে দীর্ঘদিনের অবরোধে থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ছে। কলেরা ও ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এই বোমা হামলা চিকিৎসা সেবার উপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে আরএসএফ একটি বড় সেনা ঘাঁটি দখল করার পর কর্দোফানের তিনটি রাজ্য থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। শুধু ডিলিং শহর থেকেই পালিয়ে এসেছে প্রায় ৭১০ জন, যাদের অনেকেই জাতিসংঘের ভাষায় “অকথ্য ভয়াবহতা” প্রত্যক্ষ করে সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী এলাকায়।

এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, দারফুরে যেভাবে গণনৃশংসতা ঘটেছে, ঠিক সেভাবেই কর্দোফানে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে এল-ফাশার এলাকাকে জাতিসংঘ ইতোমধ্যে “অপরাধের দৃশ্য” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

Scroll to Top