আমাদের থেমে থাকলে চলবে না: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

আমাদের থেমে থাকলে চলবে না: প্রধানমন্ত্রী | চ্যানেল আই অনলাইন

‘লেটস টক’ অনুষ্ঠানে আবারও তরুণদের মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মার্ট বাংলাদেশ নিয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তরুণদের উদ্দেশ্য বলেন: আমাদের থেমে থাকলে চলবে না। 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন: তরুণদের মতামতগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখান উপস্থিত তরুণরাই সামনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন।

Bkash

আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সিআরআই (সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন) লেটস টক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। সেই প্রশ্ন এবং তার উত্তরে প্রধানমন্ত্রী কী উত্তর দিয়েছেন তা তুলে ধরা হলো:

Reneta JuneReneta June

পুরো বাংলাদেশ থেকে তরুণ-তরুণীরা হাজির হয়েছে এ অনুষ্ঠানে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে কেমন লাগছে আপনার এ অনুষ্ঠানে এসে?
অনেক ধন্যবাদ এ সুযোগটা দেওয়া জন্য । আমি এটুকই বলবো। আসলে আমার নাতি নাতনিরা তাদের বাবা মায়ের সাথে বিদেশে থাকে। আমি তাদের পাই না । তো আমি আজ একঝাঁক নাতি নাতনি পেলাম এ অনুষ্ঠানে এসে।

আপনার ভাষায় একটু বলবেন স্মার্ট বাংলাদেশ মানে কী? আপনার স্বপ্নটা কী?
আমরাতো আসলে কম্পিউটার শিক্ষাটা ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে জোর দিচ্ছিলাম। আমরা চাচ্ছিলাম আমাদের ছেলে মেয়েরা প্রযুক্তি শিক্ষাটা নেয়। তখন বিজ্ঞানের প্রতি এত আগ্রহ ছিল না। আমরা কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করে ফেলেছি। আমরা সারা বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড কানেকশন দিচ্ছি। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। এছাড়া এখন ওয়াইফাই কানেকশন সারা বাংলাদেশে। আমরা ৪ জি ব্যবহার করছি। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভেল্টের জন্য ৫জির দিকে যাচ্ছি। এসব কাজ আমরা করে ফেলেছি। তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপটা কী হবে? সেখানেও আবার আমার ছেলে বুদ্ধি দিল যে আমরা এবার স্মার্ট বাংলাদেশ করব। স্মার্ট বাংলাদেশের কনসেপ্ট হলো যে আমাদের যারা ছেলে মেয়ে আছে তাঁরা যেন শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞানে এবং প্রযুক্তি বিজ্ঞানে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি সরকারকেও স্মার্ট সরকার গঠন করতে হবে। প্রথম সরকারে এসে দেখেছি একটা কম্পিউটার সাজানো আছে। ওটা কেউ ছুঁয়ে দেখে না। কিন্তু এখনতো আর সেটা না। আমাদের সব মোবাইল ছিল এনালগ। একটা ফোনের দাম ছিল এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। আমি যখন সরকারে আসলাম আমি তখন সিদ্ধান্ত নিলাম এটাক উন্মুক্ত করে দিবো। তখন আমরা বেসরকারি সেক্টর উন্মুক্ত করে দিলাম। এখন মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে পৌছে গেছে। সেই সাথে কম্পিউটার ব্যবহার। স্কুল থেকে শুরু করে দিলাম। ভ্যানে করে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ছেলে মেয়েদের শেখান শুরু করলাম।

আমরা চাচ্ছি আমাদের সরকারের সমস্ত কাজ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে করব। যাতে স্মার্ট জনগোষ্ঠি, স্মার্ট সরকার এবং আমাদের ইকোনমিও হবে স্মার্ট ইকোনমি। অর্থাৎ আমরা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে রাষ্ট্রিয় কাজগুলো চালাব। এতে আমাদের কর্মঘণ্টা বাঁচবে। যোগাযোগ যাতায়ের সমস্যা হবে না। সেইসঙ্গে আমি চাই আমাদের সোসাইটির সবাই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করুক। এখনতো পেনশন থেকে শুরু করে বিল দেওয়া পর্যন্ত সমস্ত কাজ অনলাইনে করছে। এমনকি আমি যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি করেছিলাম তা আমরা সেগুলো অনলাইনে দিয়ে দিই। এখন আমাদের ৬ লাখ ৮০ হাজার ছেলে মেয়ে ফ্রি ল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করে। একসময় তারা সমস্যায় পড়ত। তাদের ব্যাংকগুলো জিজ্ঞেস করতে এত টাকা কোত্থেকে আসে? এ নিয়ে আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ডেকে বিষয়টি সহজ করে দিতে বললাম। এছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন ও স্বীকৃতির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পাশাপাশি আমি বক্তব্যে এটা নিয়ে বলতে শুরু করলাম। এটাকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য যে এটাও একটা ইনকামের সুযোগ। তবে কোভিড ১৯ এর অতিমারির সময় এই ডোরটা ওপেন হয়ে গেল। তখন আমিও বসে বসে আমার সব মিটিং ভার্চুয়ালি করেছি। ৪১ এর বাংলদেশে আমাদের সব ছেলে মেয়ে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করবে। এবং যত প্রযুক্তি আসবে তা শিখে আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

২০৪১ সালে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আমাদের জায়গাটা কোথায় হবে এবং আপনার প্রত্যাশা আমাদের কাছে কী?
আমি এখানে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। নারী-পুরুষ ট্রান্সজেন্ডার যারাই হোক সবাই আমাদের সন্তান। প্রত্যেকটা পরিবার তাদের গ্রহণ করবে। আমি চাই তারাও একটা অধিকার নিয়ে সমাজে দাঁড়াবে এবং সেইভাবে কাজ করবে। সেই অবস্থাটাই আমরা সৃষ্টি করেছি। সেভাবে আমি স্বীকৃতি দিয়েছি। আমার এটাই আকাঙ্ক্ষা সকলে যার যার মেধাশক্তি মননকে ব্যবহার করে দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারবে সেই চিন্তা থাকতে হবে।

ট্যুরিজম সেক্টর নিয়ে সরকারের কোনো বড় পরিকল্পনা রয়েছে কি না? বাংলাদেশের ট্যুরিজম সেক্টর নিয়ে যদি কোনো স্বপ্ন থাকে সে সম্পর্কে জানতে চাই…
আমাদের চা বাগান থেকে শুরু করে আমাদের সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটা হচ্ছে পৃথিবীর মধ্যে সব থেকে দীর্ঘ একটা সমুদ্র সৈকত। এটা হচ্ছে স্যান্ডি বিচ। বালুকাময় এই সৈকত ডেভেলপ করার জন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। কক্সবাজার নিয়ে আমার ইচ্ছা আছে আমরা যদি বিদেশি পর্যটক আনতে চাই সেটার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা। আমার একটা প্ল্যান আছে যে আমরা বাইরের কোন দেশকে একটা অংশ দেব তাঁরা ওখানে ইনভেস্টমেন্ট করবে। সেটা শুধু বিদেসি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তাহলে বিদেশি পর্যটকরা আমাদের দেশে আসবে। এখনও আসে কিন্তু তারা ওই সুযোগটা পায় না। আরেকটা বিষয় নিয়ে নেপালের সাথে আমার আলোচনা হয়েছে। আমরা একটা যৌথভাবে কীভাবে ট্যুরিজমটা উন্নত করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। এমনকি মালদ্বীপের সাথেও আমরা নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা করে যাচ্ছি তবে আমাদের আরও পরিকল্পিতভাবে করতে হবে। আর তোমদের মতো তরুণ প্রজন্মরাও এ নিয়ে ধারণা দাও। তোমরা পরিকল্পনা করবা আমি সেটাই চাই।

মানবাধিকার ইস্যু বা অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করে। আবার ফিলিস্তিনিদের বেলায় তারা আবার নিশ্চুপ। যুক্তরাষ্ট্রের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ডকে আপনি কীভাবে দেখেন? এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কীভাবে দেখেন?
আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ তো একমাত্র গ্যাস। আমি যখন ৯৬ সালে সরকারে আসি তখন ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার দিয়ে অনেক কোম্পানি আসে। আমেরিকান কোম্পানিও এখানে তখন গ্যাস উত্তোলন করে। তখন একটা প্রস্তাব আসল যে এই গ্যাস বিক্রি করে দিতে হবে। আমি এতে আপত্তি করলাম। সেই আপত্তি করার খেসারত আমাকে দিতে হয়েছে। ২০০১ এর নির্বাচনে আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। আমার দেশের ভেতর আর বাইরের চক্রান্ত এক হয়ে গেল। তো এরকম কিছু ব্যাপার আছে। এরা সবসময় হস্তক্ষেপ করতে চায়। আজকে মানবাধিকার কথা নিয়ে তারা প্রশ্ন তোলে। শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা তোলে। দুর্ভাগ্যের বিষয়টি হলো নিজের দেশের দিকে তাকায় না, জাতিসংঘে আমি ফিলিস্তিনি ইস্যুটা তুলেছিলাম। ইইউতেও আমি যখন গেলাম তখন খুব শক্তভাবে এই প্রশ্নটা তুলেছিলাম ফিলিস্তিনি শিশু ও নারীদের মারা হচ্ছে এখন কেন সবাই চুপ। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই দুই বার যুদ্ধ বন্ধের জন্য যে প্রস্তাব আস তাতে আমেরিকা ভেটো দিল। আমেরিকায় মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নেই।, কিন্তু তারা অন্য জায়গায় এসে খবরদারি করে। এই মোরলিপানা যে তাদের কে করতে দিল আমি সেটা জানি না। আমি এই বিষয়টা সবার আগে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছি এবং প্রতিবাদও করেছি। তারা আমাদের শ্রম অধিকারর নিয়ে কথা বলে। তাদের ওখানে কর্মীরা একটা স্ট্রাইক করে সবগুলাকে চাকরি থেকে বের করে দেয়। এতে তাদের কিছু আসে যায় না কিন্তু অন্য দেশের বেলা নাক গলায়। ইরানে শাহ পালভীর যখন পতন হয় তিনি একটা কথা বলেছিলেন, আমেরিকা যার বন্ধু হবে তার শত্রু লাগবে না। হাজার হাজার যুবক ইউক্রেনে জীবন দিয়েছে। রিফিউজি হয়েছে কত মানুষ। এখন যুক্তরাষ্ট্র বলছে তাদের টাকা নাই দিতে পারবে না করতে পারবে না সহায়তা। তাহলে যুদ্ধটা বাঁধাল কেন? এই উস্কানি তারা দিল কেন? রাশিয়ার এই আক্রমণ আমরা সমর্থন করিনি। জাতিসংঘে আমরা খুব হিসেবে করে পা ফেলি। কারণ আমাদের পররাষ্ট্র নীতি হলো সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে বৈরিতা নয়। কিন্তু ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের এক স্ট্যান্ড আবার ওইদিকে ফিলিস্তিনি শিশুদের হাসপাতালে বোম ফেলা। সাধারণ মানুষকে বোমা ফেলে হত্যা করা বন্ধ না করে তারা ইসরায়েলকে উলটো আরও অস্ত্র কেনার টাকা দিচ্ছে। ইস্যুতে ইসরায়েলকে তারা উলটো আরও টাকা দিচ্ছে অস্ত্র কেনার জন্য। এদের মানবাধিকারের ডেফিনেশন কী সেটাই আমরা বুঝলাম না । পৃথিবী মনে হয় এটা বুঝতে পারেনি। তবে সারা বিশ্বে এ ব্যাপারে সচেতন। আমি জানি ২০০১ সালে গ্যাস না দেওয়ার পর তারা ঝামেলা করেছিল। তবে জনগণ এখন সচেতন। তারপরেও কারও সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করে ক্ষমতায় যেতে হবে ওই চিন্তা আমি করি না। ওরাতো লেগেই আছে আমার বিরুদ্ধে সারাক্ষণ তাতে কিছু আসে যায় না।জনগণের শক্তি বড় শক্তি। তারা ইলেকশনের ব্যাপারে অনেক কথা বলে। যখন তাদের প্রশ্ন করা হয় এই যে বিএনপি ট্রেনে আগুন মা শিশু পুড়িয়ে ফেলল। এ ব্যাপারে তাদের মুখ বন্ধ। এদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে এদের নিজেদেরই একসময় খেসারত দিতে হবে। এটা হল বাস্তবতা।

এখনও ৪৫ শতাংশ নারী সন্তান জন্মের পর পর কর্মক্ষেত্র থেকে অব্যাহতি নেয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের কী এমন কোন পরিকল্পনা আছে যেখানে বৃহৎ পরিসরে সরকারি উদ্যোগে ডেকেয়ার সুযোগ প্রদান করা হবে?
আমি ক্ষমতায় আসার পর ৯৬ সালে সচিবালয়ে ডে কেয়ার সেন্টার করে দিই। আমি নিজে টাকা দিয়ে খেলনা টেলনা কিনে দিয়ে ডে সেন্টারটা করে দিই। এখন আমরা যতগুলো প্রজেক্ট পাস করি। সব জায়গায় কিন্তু ডে কেয়ার সেন্টারের কথা বলা আছে। যেসব গার্মেন্টস উন্নতমানের সবগুলো ডেকেয়ার সেন্টা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে আমাদের এয়ারপোর্ট হেকে শুরু করে সব প্রতিষ্ঠানে আমরা ডেকেয়ার সেন্টার করে দিচ্ছি। এটা ছিল আমাদের পরিকল্পনা। সরকারি হোক বেসরকারি হোক আমার কথা হচ্ছে সব জায়গায় ডে কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে। মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করে দিয়েছি যেটা ছিল তিন মাস। আর কর্মজীবী মায়েদের জন্য আমি আলাদা একটা ভাতা দিয়ে থাকি। যে মা বুকের দুধ খাওয়ায় তার জন্য আলাদা ভাতা দিই যাতে সন্তানের পুষ্টিটা ঠিক থাকে। আমরা কিন্তু সামাজিক নিরাপত্তা খাতে এ ব্যবস্থাটা করে আসছি।

জলবায় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের কী করার আছে আর যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করছে তাদের প্রতি আপনার পরামর্শ কী ?
২০০৯এ সরকারে আসার পর কোপ-১৫এ কোর কমিটির সদস্য ছিলাম আমি। ওখান থেকে আসার পরই আমরা নিজস্ব একটা ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। এবং অ্যাডাপটেশন ও মিটিগেশন প্রোগ্রাম করে আমরা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়ে কাজ শুরু করি। সেইসাথে আমরা মুজিব বর্ষে মুজিব মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান আমরা করেছি। এই যে ড্যামেজ হবে ড্যামেজ হবে আমরা বলছি। এই ড্যামেজ কীভাবে উন্নয়নে নিয়ে আসব আমরা সেই চেষ্টা করি। আমরা আইন ও নীতিমালা করে দিয়েছি। পাশাপাশি আমরা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। যেমন সমগ্র উপকূল অঞ্চলে গ্রিন বেল্ট করার পদক্ষেপ নিয়েছি। আর যতগুলো প্রজেক্ট নিই সবগুলোতে আমরা সবগুলোতে কিন্তু বৃক্ষরোপন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঘাত অভিঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য বিশেষভাহে দৃষ্টি দিই। আমার দলের পক্ষ থেকে ১৯৮৪-৮৫ সাল থেকে একটি প্রোগ্রাম করে আসছি সেটা হলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ১৫ জুন বা পয়লা আষাঢ় থেকে পরবর্তী তিন মাস আমাদের দল ও সহযোগী দলের প্রত্যেকের ওপর নির্দেশ থাকে অত্যন্ত তিনটি করে গাছ লাগাবেন। এই প্রোগ্রামটা আমাদের নিজেরই। আমাদের অনেকগুলি প্রোগ্রাম কিন্তু নেওয়া আছে এবং নীতিমালা বিধিমালা আইন আমরা পাস কররেছি। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, কোভিড অতিমারি, স্যাংশন-পালটা স্যাংশন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। তো সেখানে আমি আমার তরুণ সমাজকে বলব যে আমাদের এক ইঞ্চি জমি খালি থাকবে না। যার যত পতিত জমি আছে সেগুলো চাষ করবে। সেখানে ফসল উৎপাদন হবে। যে যা পারে উৎপাদন করবে। যে যা পারে খাবার জিনিস তৈরি করবে যেন আমাদের যেন আমাদের কারও কাছে হাত পাততে না হয়। আমি যখন করি আমি কিন্তু নিজেরটা আগে করি। যেমন আমার গণভবন কিন্তু রীতিমতো একটা খামারবাড়ি। পাশাপাশি আমার গ্রামের বাড়িতে যে পতিত জমি ছিল সেগুলোতে ফসল ফলাচ্ছি। আমি আমাদের যুব সমাজকে বলব যে যেখানে পারবেন একটি করে গাছ লাগাবেন। আমাদের যুব সমাজের কাছে এটাই আমার আহবান থাকবে যার যেখানে যতটুকু জায়গা আছে গাছ লাগাতে হবে। পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে আর উৎপাদন করতে হবে। কারোর থেকে যেন আমাদের হাত পেতে চলতে না হয়। জলবায়ু ইস্যুতে অনেক প্রমিস করা হয়। কিন্তু যারা আসলে ডেভেলপ হয়েছে যারা সবচেয়ে বেশি দূষণ করে তারা খবরদারি করে অন্যের ওপর। আমাদেরতো কার্বন কার্বন নিঃসরণ নেই। তারপরেও আমরা সচেতন। প্রতিশ্রুতি পাই অনেক, তবে কার্যকর কতটুকু হয় সেটাই দেখার বিষয়। তবে যারা দূষণ করে তারা বেশি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয় না। আমাদের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ছোট ছোট দ্বীপগুলো। সিলেভেলে উঠে গেলে অনেক দেশই শেষ হয়েছে। তাদেরকেও আমরা আমাদের অ্যাডাপটেশন প্ল্যান এ ধারণাগুলো দিই। আমি তাদেরকে বলি আপনাদের দেশের অবস্থাটা বুঝে আপনারা আপনাদের নিজেদের দেশের সুরক্ষার ব্যবস্থা করবেন।

স্মার্ট বাংলাদেশ করলে কিন্তু ডিজিটাল সিকিউরিটি থাকে হ্যাকিং হয়,বাংলাদেশ ব্যাংকেও সিকিউরিটি হ্যাকিং হয়েছিল। এছাড়া সরকারি সাইট থেকেও তথ্য চুরি হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে নেক্সট জেনারেশনের জন্য আপনারা কী পদক্ষেপ নেবেন?
আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স যেমন আমাদের জন্য একটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে পাশাপাশি সমস্যাও সৃষ্টি করে। আর হ্যাকিংয়ের ব্যাপারে বলব বাংলাদেশ ব্যাংক যখন ডিজিটালাইজড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আমাদের আসার আগে। এটা বোধহয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা নিয়ে শুরু হয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো ফায়ারওয়াল ছিল না। তাই সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এ জন্য হ্যাকিংটা হয়েছিল। যে কোন ইসস্যুতে আমাদের সিকিউরিটিটা ঠিক আছে কি না বা কোন পদ্ধতিতে করা যায় সেটা নিজেদেরই সতর্ক থাকতে হবে। এর বাইরে আমরা সাইবার নিরাপত্তা আইন করেছি। তারপরও আমরা বলব যারা ব্যবহার করবে তাদের সচেতন থাকতে হবে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনও নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে অবকাঠামোগত যে সমস্যা রয়েছে সেগুলো দুরীকরণের ক্ষেত্রে আপনাদের পদক্ষেপ কী হতে পারে?
এ ব্যাপারে এরইমধ্যে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন নতুন প্রজেক্ট যা তৈরি করছি প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখছি। বিশেষ করে ট্রেনিং দেওয়া খেলধুলা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের সংসদ ভবনের পাশে একটা মিনি স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। সেটা শুধু মাত্র প্রতিবন্ধীদের জন্য। এছাড়া সাভারে একটা অ্যাকাডেমি তৈরি করে দিচ্ছি প্রতিবন্ধীদের জন্য। এছাড়া ক্রিকেট টিম বিশেষ অনুদান দ্বিয়ে ব্যবস্থা করে দিয়েছি খেলাধুলার জন্য। সবথেকে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো প্রতিবন্ধীরা ২১টা স্বর্ণ পদক এল বিশেষ অলিম্পিক থেকে।

হতাশা কীভাবে মোকামিলা করেন? হতাশা কাটাতে তরুণদের কী পরামর্শ দেবেন?
এখন কোনো কিছু হলেই শুনি বোর হয়ে যাচ্ছি। আমাদের সময় এমন ছিল না। আসল কথাটা হলো আত্মবিশ্বাস। আরেকটা বিষয় হলো ডিজিটাল যুগ। আমরা যদি পাঁচজন এক জায়গায় বসি দেখা গেল সবাই হাতে একটা মোবাইল নিয়ে বসে আছি। এর কারণে বাইরে জগত চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। এরকারণে হতাশা বাড়ছে। আমরা যখন যে কাজটা করব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে করব। যাই করব নিজের বিশ্বাস নিয়ে করতে হবে। সেই কাজে আমি যদি সফল না হই তবুওতো আমি আমার চিন্তায় করলাম। এভাবে চিন্তা করলে হতাশ হবে না।

আপনার কাছে আপনার রান্নার করা বেস্ট আইটেম কোনটা? আপনি কী বাইরে খেতে যেতে পারেন?
আমাকে সিকিউরিটির নামে বন্দি করে রাখে। আমি বলতে পারব না যে ঢাকার কোনো ভালো রেস্টুরেন্টে যেতে পারছি বা খেতে পারছি। এমনকি বাইরে গেলেও একই অবস্থা দাঁড়ায়। আর রান্নার বিষয়ে বলতে গেলে আমার ছেলে মেয়ে নাতিরা আমার রান্না পছন্দ করে। সেইজন্য চেষ্টা করি রান্না করতে। তারা আসলে মোরগ পোলাও রান্না করি, মাছ রান্না করি। এছাড়া ইতালিয়ান পিজ্জা,লেজানিয়া এগুলোই করি।

আপনি কি গ্রামে থাকতেন? সেখানে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল ?
আমার জন্ম গ্রামে। আমাদের গ্রাম টুঙ্গিপাড়া যেতে ঢাকা থেকে যেতে ২২ থেকে ২৪ ঘণ্টা লাগত স্টিমারে। আমি ৮ বছর পর্যন্ত গ্রামেই ছিলাম। ৫৪ সালে ঢাকা আসি। তবে প্রত্যেক স্কুল ছুটিতে গ্রামে যেতাম। তখন বিদ্যুৎ ছিল না, খাল পুকুরের পানি ব্যবহার করতাম। ওগুলোই আমাদের জন্য আনন্দের ছিল। আমার ঢাকায় কোনো বাড়িঘর নেই। আমি গ্রামেই থাকব। এখনতো পদ্মাসেতু হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি চলে যাব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময়ের ব্যবস্থাপনা কোন ম্যাজিকে করেন?
ম্যাজিক কিছু নেই। ব্যাপারটি হলো সময় করে নেওয়া। কাজের ফাঁকেই সময় করে নিতে হয়। হ্যাঁ ব্যস্ত খুবই থাকতে হয়। আমাকে ১৭ কোটি মানুষের দায়িত্ব নিতে হয়। এছাড়া ডেভেলপমেন্ট কাজ হাতে নিয়ছি সেগুলো করতে হয়। এছাড়া রাজনৈতিক ব্যস্ততাও রয়েছে। এরমধ্যে আমার দল সব সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকে। এই যে এখন যেমন সারাক্ষণ একটা টেনশনে থাকতে হয় জ্বালাও পোড়াও নিয়ে। এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তাদের চিকিৎসা করে যাচ্ছি। আবার পরিবারগুলোকেও সহায়তা করতে হয়। সময় করে নিতে হবে। তরুণ সমাজের প্রতি একটা কথাই বলব নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা।

তরুণরা প্রধানমন্ত্রী হলে কী করত?
সুভাশিষ ভৌমিক ইঞ্জিনিয়ার- আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম মেধাবীদের দেশে ধরে রাখার জন্য এমন প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দিতাম এবং প্রণোদনা রাখতাম যাতে দেশে এসে কাজ করলে এরা বড় রকমের সুবিধা ভোগ করত এবং দেশে থাকত এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করত।

সাদিয়ে রশ্নি সূচনা,উপস্থাপক এবং শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিস অর্ডার- আমি প্রধানমন্ত্রী হলে এই সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করব যাতে সাধারণ মানুষের সাথে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা যাতে আমাদের সবখানে অগ্রাধিকার পায় এবং তাদের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ঢাকা আসতে না হয়।

আরিয়ান আরিফ,পরিচালক, মজার স্কুল- আমি প্রধানমন্ত্রী হলে পথশিশুদের জন্য যে বরাদ্দ আসে সেটা এমন একটা প্ল্যানিং করতাম যাতে দশ বছর পরেও নিখুঁতভাবে চলবে এবং এমন একটা রিপোর্টিং সিস্টেম করতাম যেখানে সব দায়িত্বশীলরা রিপোর্ট দিতে বাধ্য থাকতে যে কী পরিমাণ ইমপ্রুভমেন্ট হয়েছে এই পথ শিশুদের। তারা মূল স্রোতে কতটা যুক্ত হয়েছে। দেশে যে বোঝা হতো সে কীভাবে সম্পদে পরিণত হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে ধারণ করা অনুষ্ঠানটি প্রায় এক সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে তরুণদের ভাবনা ও তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলো জেনে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাদের নানা প্রশ্নের জবাবও দেন।

২০১৮ সালে লেটস টক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো তরুণদের মুখোমুখি হন শেখ হাসিনা। এবারের অনুষ্ঠানে তিনি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি এবং তরুণদের নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণ বিষয়ে কথা বলেন।

Scroll to Top