এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
সিরিয়ার দামেস্কে ইসরায়েলের সর্বশেষ সামরিক অভিযানে শিশুসহ কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন ২৫ জন। হামলার পর বেইত জিন শহর থেকে বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সিরিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা সানার প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোরে ইসরায়েলের চালানো গোলাবর্ষণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। কুনেইত্রার আল-সালাম হাসপাতালে অন্তত পাঁচজনের মরদেহ রয়েছে, যাদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। পাশাপাশি এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন টহল দিচ্ছিল বলে জানানো হয়েছে।
সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স দাবি করেছে, ইসরায়েলি বাহিনী যেকোনো চলাচলকে লক্ষ্য করছে, ফলে উদ্ধারকর্মীরা বেইত জিনে প্রবেশ করতে পারেনি।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযান অপরাধমূলক অভিযোগ করে জানিয়েছে—দখলদার বাহিনী ব্যর্থ অনুপ্রবেশের পর বেইত জিন শহরকে নৃশংসভাবে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক্স-এ জানিয়েছে, অভিযানের সময় তাদের ছয় সৈন্য আহত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তারা যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে”।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, অভিযান চলাকালে বেইত জিনে প্রবেশকারী ইসরায়েলি এক বাহিনীকে ঘিরে ফেলা হয়। এরপরই বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণ শুরু হয়, যার ফলে বেশ কয়েকজন সিরীয় নিহত হন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন—এলাকায় কোনো হিজবুল্লাহ বা মিলিশিয়া উপস্থিত ছিল না।
আল জাজিরার সাংবাদিক ওসামা বিন জাভেদ বলেন—নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। তারা কৃষক ও রাখাল; ইসরায়েল-বিরোধী শক্তির সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান হাইটস দখল করার পর থেকে কুনেইত্রা সীমান্ত বরাবর অনুপ্রবেশ, অভিযান, ড্রোন হামলা ও অপহরণের ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল সীমান্তের যেকোনো অস্থিরতাকে “নিরাপত্তা অঞ্চল” তৈরির অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
সিরিয়ার সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কুনেইত্রা প্রদেশ জুড়ে ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক, টহল ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জনকে আটক বা অপহরণ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাবেক রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতি ও দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি উপস্থিতি বৃদ্ধির পর সীমান্তে হামলা, গোলাবর্ষণ ও অনুপ্রবেশ আরও বাড়ছে। দামেস্ক জানাচ্ছে—এগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।


