মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৩১ জন প্রবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। ধিলবাহারু মাগু এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে অংশ নেয় একটি টাস্কফোর্স। প্রশাসনের দাবি, এলাকায় অবৈধ অভিবাসন ও অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আটককৃতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। মালে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই এই ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
মালদ্বীপের নির্মাণ, হোটেল ও সেবাখাতের বড় একটি অংশই দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। এসব শ্রমিকদের অনেকেই বছরের পর বছর ধরে কম মজুরিতে কাজ করলেও, তাঁদের কাগজপত্র সবসময় নিয়মিত হয়নি, কখনো নিয়োগদাতার গাফিলতিতে, কখনো খরচ ও জটিলতার কারণে নিজের অজান্তেই ‘অবৈধ’ হয়ে গেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মালদ্বীপ সরকারের উচিত একদিকে যেমন অভিবাসন নীতিতে শৃঙ্খলা আনা, তেমনি অন্যদিকে এই প্রবাসীদের ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, অবৈধ অভিবাসন একটি কেবল নিরাপত্তা ইস্যু নয়—এটি মানবিক, সামাজিক ও নীতিগত সমস্যাও বটে। আটক কিংবা ফেরত পাঠানোর আগে প্রতিটি শ্রমিকের প্রেক্ষাপট যাচাই করা এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে মালদ্বীপ সরকার অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপ করে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৬,০০০ প্রবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।