ফুলগাছে মোস্তাফিজুরের ভাগ্য বদল

ফুলগাছে মোস্তাফিজুরের ভাগ্য বদল

ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফুল মানুষের জীবনকে সুন্দর করে তুলে। বিভিন্ন উৎসব ১৬ ডিসেম্বর, বসন্তবরণ, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলের মহোৎসবে সুসজ্জিত হয় বর্ণিল পরিবেশ। বিয়ে, গায়ে হলুদ, জন্মদিনে বা প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা জানাতে ফুলের প্রয়োজন সবখানেই।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান প্রায় তিন একর জমিতে গড়ে তুলেছে ‘চির সবুজ ‘ নামে নার্সারী। তিনি ফুল চাষের পাশাপাশি ফুলের চারা বিক্রি করে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার ক্রেতাদের কাছে। বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিশ্রমের ফলে একের পর এক সফলতা এসেছে। সংসারে এনেছেন স্বচ্ছলতা। অল্প পুজিতে যাত্রা শুরু করে এখন তিনি বড় পরিসরের নার্সারী ব্যবসায়ী। ফুল ও ফুল গাছের চারা বিক্রি করে বছরে ১০ লাখ টাকা আয় করেন তিনি।

 ‘চির সবুজ’ নার্সারী

জানা যায়, ১৭ টাকা নিয়ে ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে মোস্তাফিজুর। ২৬ বছরে এগিয়ে গেছে বহুদূর। সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। নিজের জমি, পাকা বাড়ি হয়েছে। বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ফুল রয়েছে। শুধু ফুল নয় ফুল গাছও বিক্রি করে। ৬ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের ফুলের চারা বিক্রি করে। পিতার কাজে সহায়তা করে কলেজ পড়ুয়া ছেলে দিদারুল ইসলাম। পড়ালেখার পাশাপাশি বাবাকে সহায়তা করে।

দিদারুল ইসলাম বলেন, আমিসহ আমার কয়েকজন সহপাঠী বাবার নার্সারীতে অবসরে সময় দেই। এতে আমার সহপাঠীদের লেখাপড়ার খরচ নিজেরাই বহন করতে পারছে। নার্সারীর পাশেই কলেজ তাই আমাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সময় দেওয়া সহজ।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০০০ সালের পরে আর পিছন তাকাতে হয়নি। বর্তমানে শতাধিক দেশি বিদেশি জাতের ফুল গাছ আছে। ইনকা তিন রং , চায়না গাঁদা, সাদা গাঁদা,বারোমাসি গাঁদা, দেশি গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, অ্যাস্টার, ডেইজি, কসমস, সিলভিয়া, সিলোসিয়া এন্টিরিনাম, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, ডায়ান্থাস, ফ্লক্স, ভারবেনা, , সূর্যমুখী, পর্টুলেকা, ক্যালেন্ডুলা, হলিহক, মর্নিং গ্লোরি, সুইট পি, অ্যাজালিয়া, জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, লাল, কালো সকল জাতের গোলাপ আফ্রিকান টিউলিপ, ম্যাঙ্গোলিয়া, উস্টেরিয়া, কেশিয়া জাবানিকাবা, জাফরান, ঝিনিয়া, স্টার, রজনী, জাকার আন্ডা, চাইনিজ লন্ডন জবা ইত্যাদি। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করে। শীতকালে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ফুল গাছ বিক্রি করে। জাতীয় দিবসে অর্ধ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারে। বছরে ৪ লাখের অধিক টাকার ফুল বিক্রি করে। ফুল ও ফুল গাছের চারা বিক্রি করে মোট ১০ লাখ টাকা আয় করতে পারে।


শ্রমিক আব্দুর রশিদ বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজ করি। দীর্ঘদিন ধরে আমি এই নার্সারীতে কাজ করি।

জুনায়েদ নামে অপর এক শ্রমিক বলেন, এই নার্সারীতে কাজ করে তার সংসার চলে। চিরসবুজ নার্সারীটি আমার মত আর ও ৮-১০ বেকার যুবকের চলার পথ করে দিয়েছে।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব আল রানা বলেন, আমরা আমাদের কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানকে সহায়তা করে থাকি। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অনেক সংগ্রাম করে তিনি এখন সফল চাষী।

Scroll to Top