রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকার মধ্যে অন্যতম শাহবাগ। এই এলাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই এলাকায় যাতায়াত করেন। /চলাচল নিরাপদ করতে ১০০ গজের মধ্যে দুটি ফুট ওভার ব্রিজ স্থাপন করেছে সিটি করপোরেশন। দুটি ওভার ব্রিজের একটি দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় জাদুঘরে আসা দর্শনার্থীরা যাতায়াত করেন। অপর একটি ওভার ব্রিজ দিয়ে শাহবাগ থানা, রমনা পার্ক, বারডেম হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকার কথা। বিন্তু বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্নতা। বারডেম হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটি পথচারীদের ব্যবহারের সুযোগ নেই বললেই চলে। এটি এখন শাহবাগের পাইকারী ফুল ব্যবসায়ীদের দখলে। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন পথচারীরা।
রাজধানী জুড়ে পথচারীদের নিরাপদে যাতায়াতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডিএসসিসি মোট ৩৫ টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করেছে। কিন্তু, এই ফুটওভার ব্রিজগুলো বেশিরভাগই হকার, ভবঘুরে, ভিক্ষুকের দখলে থাকায় সাধারণ মানুষকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে গিয়ে নানা সময় পড়তে হয় অসুবিধায়। এজন্য ডিএসসিসির অব্যবস্থাপানকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় ফুটওভার ব্রিজে উঠার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গারও সংকট রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শাহাবাগ চত্ত্বরের বারডেম হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজটির সামনে স্থানীয় ফুলের দোকান থাকার কারণে নিরাপদে রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহারে সুবিধার চেয়ে অসুবিধায় বেশি পড়তে হয় সাধারণ মানুষদের। ফুটওভার ব্রিজে রাস্তার দু-পাশ দিয়ে পথচারীদের ওঠা-নামা করার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। রাস্তার একপাশে ফুটপাত দখল করে বসে আছে ফুল ব্যবসায়ীরা আর অপর পাশে বারডেম হাসপাতালের দেয়াল ঘেষে গড়ে উঠেছে খাবারের দোকান। এছাড়াও ব্রিজের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙা রয়েছে। এতে করে প্রতিদিনই ফুটওভার ব্রিজে উঠতে সাধারণ মানুষদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।
দেখা গেছে, ফুটওভার ব্রিজের সামনে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখে ফুল ব্যবসায়ীরা। ব্রিজটিতে উঠার সিড়িতে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যক্তিগত সাইকেল থেকে শুরু করে অনেকগুলো মালামাল বোঝাই করা বস্তা রাখতে দেখা গেছে। ফুল দোকানের একজন নারী কর্মচারীকে সিড়ির জায়গা দখল করে ফুলের মালাও বানাতে দেখা গেছে।
এদিকে পথচারীদের অভিযোগ, ফুটওভার ব্রিজে উঠার জন্য যে জায়গা থাকা প্রয়োজন সেটিও এখন ফুল ব্যবসায়ীদের দখলে। ফলে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সরাসরি রাস্তা পারাপার হওয়াকেই শ্রেয় মনে করছেন তারা। এতে দূর্ঘটনা হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়েই প্রধান সড়কের মাঝ দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হচ্ছে তাদেরকে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ওমর ফারুক। প্রতিনিয়ত এই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করেন ফারুক। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, এখানে (শাহবাগ মোড়) ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া সত্যিই কষ্টসাধ্য হয়ে গিয়েছে। একপাশে রয়েছে ফুলের দোকান অন্যপাশে খাবারের দোকান। এরাই মূলত ওভারব্রীজে ওঠার পথ দখল করে রেখেছে। শুধু ওভারব্রিজের কথা বললে ভুল হবে, ঢাকার বেশিরভাগ ওভারব্রিজই বিভিন্নভাবে দখল হয়ে আছে। কেউ ঘর-বাড়ি বানিয়ে রেখেছে আবার কোথাও ওভারব্রিজে ছিন্নমূল লোকজন নেশা করছে। আমি মনে করি, ওভারব্রিজগুলোর দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিত।
ফুটওভার ব্রিজে উঠার জায়গা দখল করে নিজ ব্যবসায়ী কাজ করার প্রসঙ্গে স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে অন্য ব্যবসায়ীর উপর দায় চাপান। ফুটওভার ব্রিজের উঠার সিঁড়িতে রাখা মালপত্রের কথা বেশিরভাগ ব্যবসায়ী অস্বীকার করেন।
ফুল ব্যবসীয়রা প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, সারাদিনে এই ওভারব্রিজ দিয়ে দশজন মানুষও পার হয় না। আর ব্রিজের অনেক জায়গায় ভাঙা আছে। মানুষ এখন রাস্তা দিয়েই পারাপার হয়। কেউ ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না।
ফুট ওভার ব্রিজের এমন দখল এবং পথচারীরা ব্রিজ রেখে রাস্তা ব্যবহারের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা কায়জার মোহাম্মদ ফারাবী বার্তা ২৪. কমকে বলেন, সিটি করপোরেশনের অধীনে অবৈধভাবে যদি কোনো কিছু থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই সেটির ব্যবস্থা নিব। অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ অবস্থান নির্মূল করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। আমরা এটার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।





