অসাধু মাটি ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার অন্তত ১০টি আঞ্চলিক সড়ক মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই ওই সড়কে পড়ে থাকা পিচ্ছিল কাদামাটিতে ঘটছে দুর্ঘটনা। শুধু দুর্ঘটনা নয়, ধুলোবালি ও কাদামাটি মাখা ওই সড়কে চলাচলেও ব্যাপক দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে পথচারীদের।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাতের আধারে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা ফসলি জমি ও নদীপাড়ের মাটি কেটে দেদারসে পাচার করছে অবৈধ ইটভাটাসহ ফসলি জমি ভরাট কাজে। এর ফলে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ধামরাই মাওনা আঞ্চলিক সড়কের, ফুলবাড়ীয়া, বলিয়াদী, শ্রীফলতলী, ডুবাইল, বেগুনবাড়ী এলাকার ব্যাস্ততম সড়ক ও উপজেলার বড়ইবাড়ী, বাশতলী-কালিয়াকৈর সড়কের দিঘিবাড়ী, সৈদপুর, মধ্যপাড়া ইউনিয়নে জামালপুর বাজার, জালুয়া ভিটি, বোয়ালী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর, বান্দর মার্কেটসহ উপজেলার অন্তত ১০ টি সড়ক বেহাল হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই।
প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাকের ডগায় এসব চললেও কোন কার্যকর ভূমিকা রাখছেন না কেউই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকার এসব মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে সখ্যতা রয়েছে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের।
এদিকে রাতের আধারে মাটি বহনকারী ভারী যানবাহনের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে সড়ক ও কালভার্টগুলোর। মাটির গাড়ি থেকে চলন্ত অবস্থায় পিচ্ছিল কাদামাটি সড়কে পড়ে সৃষ্টি হচ্ছে মৃত্যু ফাঁদ, ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা৷ অপরদিকে দিনের বেলায় এসব কাদামাটি শুকিয়ে ধোঁলোয় সৃষ্টি হয়ে বাতাসে মিশছে। এতে ওইসব পথে চলাচলরত পথচারী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিশ্বাস প্রশ্বাসে মিশে মারাত্নক ঝুঁকিতে পড়ছে।
এসব বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বিপ্লব পাল বলেন, সড়কগুলোতে অধিক ভারি যানবাহণ চলাচল নিষেধ। তবে রাতের আধারে ভারি ভারি মাটির গাড়ি চলছেই। এতে সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ হচ্ছে। দ্রুতই এসব বন্ধ করা উচিত।
কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য গুহ বলেন, এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




