শুক্লা পঞ্চমীর মাহেন্দ্রক্ষণে সরস্বতীপূজা হয়। এই শুক্লা পঞ্চমী তিথি বসন্ত পঞ্চমী, শ্রীপঞ্চমী, সরস্বতী পঞ্চমী, ঋষি পঞ্চমী নামেও পরিচিত। এই দিনে মা সরস্বতীর জন্ম হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ঋগ্বেদ অনুসারে, ব্রহ্মা তাঁর নিজের সৃষ্টিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। চারদিকে নিস্তব্ধতা। তারপর তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে জল ছিটিয়ে দিলেন, যার ফলে এক চতুর্ভুজা নারী তাঁর হাতে বীণা নিয়ে হাজির হলেন। ব্রহ্মার আদেশে দেবী বীণায় সুমধুর সুর তোলেন, যা বিশ্বকে শব্দ ও বাণীতে অভিভূত করে। এরপর ব্রহ্মা দেবীর নাম রাখেন ‘সরস্বতী’। যিনি সারদা ও বাগ্দেবী নামেও পরিচিত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেবীর বাহুর সংখ্যা অধিকতর হলেও সাধারণত তিনি চতুর্ভুজা, পদ্মাসনা, শুক্লাবর্ণা, শুভ্রবর্ণা, বীণা-পুস্তক, জপমালা, সুধাকলসর্ধারিণী, চন্দ্রশেখরা, ত্রিলোচনা। কখনো দেবী দ্বিভুজা। তন্ত্রে সরস্বতী বাগীশ্বরী-বর্ণেশ্বরী সারদা।
বৈদিক জ্যোতিরূপা সরস্বতী ও নদী সরস্বতী সম্মিলিতভাবে জ্ঞানের দেবীরূপে পুরাণতন্ত্র ও সাহিত্যে বিপুল শ্রদ্ধা ও ভক্তির অধিকারিণী হয়েছেন। বেদে সরস্বতী প্রধানত নদীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী। পুরাণ অনুযায়ী, শুক্লা পঞ্চমীর তিথিতেই ব্রহ্মার মুখ থেকে বিদ্যা ও বুদ্ধির দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি। পুরাণে আরও বলা হয়েছে, দেবী সরস্বতী আদ্যা প্রকৃতির তৃতীয় অংশজাত। তিনি বাক্য, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিদ্যা ইত্যাদির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ওই গ্রন্থমতে, সরস্বতীপূজার প্রবর্তক ব্রহ্মা ও শ্রীকৃষ্ণ। তবে পণ্ডিতদের অনেকেই মনে করেন, সরস্বতী প্রথমে ছিলেন নদী, পরে হলেন দেবী। রমেশচন্দ্র দত্ত লিখেছেন ‘আর্যাবর্তে সরস্বতী নামে যে নদী আছে, তা-ই প্রথমে দেবী বলে পূজিত হয়েছিলেন।’




