টাঙ্গাইলে সিঁধ কেটে এক রাতে ২ বাড়িতে চুরি

টাঙ্গাইলে সিঁধ কেটে এক রাতে ২ বাড়িতে চুরি

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্ব। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। যার প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে। অভিভাবকরা বলছেন, দ্বন্দ্বে স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিগত ৫ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল অব্দি এ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ২০২৩ সালে ৫ জন শিক্ষার্থী নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষা দেওয়া নিজকুঞ্জরা কেজি স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।

ফলাফল পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালে ১৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ১১৬ জন। ফেল করে ১৮ জন। পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই বছর কোন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

২০২০ সালে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করে ১০৫ জন। ফেল করে ১৯ জন। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ওই বছরও কোন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।

২০২১ সালে করোনাকালীন সময়ে ১৬২ জন পরীক্ষার্থী ছিল। যার মধ্যে ১৬০ জন পাস করে। পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ জন।

২০২২ সালের ফলাফল পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৪৬ জন। পাস করেছে ১৩৬ জন। পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ৬ জন।

২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৭৭ জন। এরমধ্যে নিজকুঞ্জরা কেজি স্কুলের ছিল ১৫ জন। নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল ১৬২ জন। যার মধ্যে পাস করে ১৪৯ জন। ফেল করেছে ২৮ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। অন্যদিকে কেজি স্কুলের ১৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতভাগ পাস ছিল এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ জন। এ বছর নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৭১ শতাংশ।

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে বিগত ৫ বছরে স্কুলে কমেছে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সংখ্যা। স্কুলের একটি সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ভর্তি হয়েছিল ১৩৪ জন, ২০২০ সালে ভর্তি হয়েছিল ১২০ জন, ২০২১ সালে ১১১ জন, ২০২২ সালে ৯২ জন, ২০২৩ সালে ৯০ জন ও ২০২৪ সালে ভর্তি হয়েছিল মাত্র ৬৩ জন।

স্কুলে এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহলে চলছে আলোচনা সমালোচনা। অভিভাবকরা বলছেন, স্কুলের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে সন্তানদের স্কুলে ভর্তি করাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন তারা।

মোশাররফ হোসেন নামের একজন বলেন, স্কুলে প্রতিবছর বছর ফলাফল খারাপ করছে। পাসের হার ভালো হলেও জিপিএ-৫ এর সংখ্যা নেই বললেই চলে। এলাকার একমাত্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন দশা মেনে নেওয়ার মতো না। আমার মেয়ে এ স্কুলে পড়লেও আমি তার ফলাফল নিয়ে চিন্তায় থাকি।

উম্মে কুলসুম নামে এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চাইতে স্কুলের নানা সমস্যার কথা বেশি শুনতে পাই। যার কারণে ছেলেকে এ স্কুলে না দিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শম্ভু পদ দে বলেন, স্কুলে বর্তমান যে পরিস্থিতি চলছে এতে শিক্ষার্থীদের ওপর কিছুটা প্রভাব অবশ্যই পড়েছে। তবে পাসের হার অনুযায়ী বিগত বছরগুলোতে ফলাফল ভালো। জিপিএ-৫ সংখ্যায় কম হওয়ার কারণ এটি কোন ক্যাডেট কলেজ না। এখানে এলাকার ভিন্ন মানের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। যার কারণে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কম।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন বলেন, পড়ালেখার মান, নিয়ম কানুন ঠিক আছে। এতে কোন সমস্যা নাই। স্কুলে চলমান যে সমস্যা চলছে এটি সম্পূর্ণ শিক্ষা বোর্ডের বিষয়। বোর্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেটি বাস্তবায়ন করার অপেক্ষায় আছি।

প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফি উল্ল্যাহ বলেন, একটি স্কুলে এমন অবস্থা হলে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় কোন ব্যাঘাত ঘটলে কাউকে ছাড় নয়। স্কুলের অভ্যন্তরীণ কোন সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমরা অভিযোগ আমলে নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি ও স্কুল সংশ্লিষ্ট সকলকে তলব করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

Scroll to Top