
ছবি: সংগৃহীত।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের মধ্যে ব্যয় কমাতে কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করেছে মাইক্রোসফট। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ৩ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের বেশি মুনাফার কথা জানিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় মাইক্রোসফটের আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ২৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসার প্রবৃদ্ধি এ আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্লাউডভিত্তিক সেবা মাইক্রোসফট ক্লাউডের আয় বেড়েছে ৩০ শতাংশ।
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা বলেন, এআইয়ের বিকাশ বিভিন্ন শিল্পে প্রযুক্তিটির ব্যবহার বাড়িয়েছে এবং বাস্তব ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তবে এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের আর্থিক সুফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মাইক্রোসফটও তাদের আর্থিক প্রতিবেদনে এআই খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগসহ কয়েকটি ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাইক্রোসফট জানায়, ব্যয় কমানো ও কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে যোগ্য কর্মীদের স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও কানাডার কর্মীরা এ কর্মসূচির আওতায় থাকবেন। প্রায় ৬০ হাজার কর্মীকে এ প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগ্রহী কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি পেশাগত পরিকল্পনায়ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বিশ্বজুড়ে মাইক্রোসফটের কর্মীসংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি। পরিবর্তিত ব্যবসায়িক চাহিদার সঙ্গে কর্মীসংখ্যার সমন্বয় করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আর্থিক ফলাফলের খবরে বুধবার নিউইয়র্কে বাজার-পরবর্তী লেনদেনে মাইক্রোসফটের শেয়ারের দাম প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে, একই দিনে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের আর্থিক ফলাফল বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ত্রৈমাসিক নিট মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমেছে। এআই খাতে বড় অঙ্কের ব্যয় অব্যাহত রাখার ঘোষণার পর অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে যায়।
প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছর এআই চিপ ও ডেটা সেন্টারের মতো অবকাঠামো নির্মাণে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল বিনিয়োগ থেকে কতটা আর্থিক সুফল আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…





