আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। মাত্র ৩০ বলে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের ব্যাটার হিসেবে এটিই এখন দ্রুততম শতক। ৩০ বলে সেঞ্চুরি করার পথে পাওয়ার প্লেতে একাই করেছেন ৭৬ রান, এটি বিশ্বরেকর্ড। পাওয়ার প্লেতে অতীতে এতো রান তুলতে পারেনি কেউ।
নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে টসে হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হন অভিষেক। একের পর এক বাউন্ডারিতে মাত্র ৩০ বলেই তিন অঙ্ক ছুঁয়ে ফেলেন তিনি।
এতে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ও নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন অভিষেক। ২০২৪ সালে গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন রাজা। আর চলতি বছরের শুরুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একইসংখ্যক বলে শতক করেছিলেন অ্যালেন। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এতোদিন এই দুটো ছিল দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আজ সেটাও ভেঙে দিলেন অভিষেক শর্মা।
সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ টেকেননি অভিষেক। রশিদ খানের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ৩৪ বলে ১০৮ রান করে থামেন তিনি। তার বিধ্বংসী ইনিংসটিতে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় অবশ্য অভিষেক তৃতীয়। এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান ২০২৪ সালে সাইপ্রাসের বিপক্ষে মাত্র ২৭ বলে শতক করে বিশ্ব রেকর্ডটি ধরে রেখেছেন। ২৯ বলে সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ।
ভারতের হয়ে দ্রুততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডটিও এখন অভিষেকের দখলে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার। ২০১৭ সালে ইন্দোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন রোহিত।
অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি সঞ্জু স্যামসনের ফিফটিতে বড় সংগ্রহ পায় ভারত। অভিষেকের সঙ্গে ১৪২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন স্যামসন। ৩৫ বলে ৫০ রান করে আউট হন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার করেন ২০ বলে ২৯ রান।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। পরে জবাব দিতে নেমে অভিষেকের রানটাই করতে পারেনি আফগানিস্তান। গুটিয়ে গেছে মাত্র ৯৪ রানে।
