২৭৬ জন ফিরলেও কেন ফ্রান্সে রয়ে গেলেন ২৭ যাত্রী? | চ্যানেল আই অনলাইন

২৭৬ জন ফিরলেও কেন ফ্রান্সে রয়ে গেলেন ২৭ যাত্রী? | চ্যানেল আই অনলাইন

মানবপাচারের অভিযোগে দুবাই থেকে নিকারাগুয়ার উদ্দেশে উড়ে যাওয়া একটি বিমানকে আটক করা হয়েছিল ফ্রান্সের শালোন-ভ্যাত্রি বিমানবন্দরে। বেশ কয়েকদিনের টালবাহানার পর মঙ্গলবার ২৬ ডিসেম্বর মুম্বাই বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বিমানটি।

তবে মঙ্গলবার আটক বিমানে সওয়ার হয়ে ২৭৬ জন যাত্রী ভারতের মাটিতে পা রাখলেও দুই শিশুসহ মোট ২৭ জন যাত্রী ফ্রান্সেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কেন তারা ফ্রান্সে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। কারও কারও মতে, তারা নাকি বিমানটির পূর্বনির্ধারিত গন্তব্য নিকারাগুয়াতেই যেতে চেয়েছিলেন, পরিবর্তিত গন্তব্যস্থল ভারতে নয়।

Bkash

আগেই জানা গিয়েছিল যে, বিমানটিতে থাকা ৩০৩ জন যাত্রীর মধ্যে অধিকাংশই ভারতীয়। তবে ফ্রান্সে থেকে যাওয়া ২৭ জন যাত্রী কোন দেশের নাগরিক, তা প্রকাশ্যে আনতে চায়নি ফরাসি প্রশাসন।

এই ২৭ জনই ফ্রান্সের কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, কোনও ব্যক্তি কোনও দেশের প্রশাসনের কাছে আশ্রয় চাইলে তাকে জোরপূর্বক তার দেশে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না।

Reneta JuneReneta June

ফ্রান্স এই যাত্রীদের সম্পর্কে যথেষ্ট খোঁজখবর নিয়েই আশ্রয় চাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্যারিস বিমানবন্দরে ওই যাত্রীদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ফরাসি পুলিশ।

এই যাত্রীদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বেশ কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। বাকিদের আপাতত ফ্রান্সে থাকার অনুমতি দেওয়া হলেও ওই দু’জনকে দেশ ছাড়তে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাদের আইনজীবী।

গত শুক্রবার জ্বালানি ভরার জন্য প্যারিস থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে শালোন-ভ্যাত্রি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল নিকারাগুয়ার উদ্দেশে উড়ে যাওয়া ওই বিমানটি। বিমানে যাত্রীদের মধ্যে ছিল ১১টি শিশু, যাদের কোনও অভিভাবক ছিল না।

ফরাসি প্রশাসনের সন্দেহ হয় যে, পাচারের উদ্দেশেই তাদের নিকারাগুয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তৎক্ষণাৎ বিমানটিকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দর চত্বরেই থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়।

যে বিমানকে ঘিরে এক শোরগোল, সেটি রোমানিয়ার সংস্থা লিজেন্ড এয়ারলাইনসের মালিকানাধীন। এই ঘটনায় অসন্তুষ্ট বিমান সংস্থাটিও। তাদের দাবি, ওই উড়ানে শুধুমাত্র যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছিল তারা। মানবপাচার হচ্ছিল কি না, সেই বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

ওই সংস্থার বিরুদ্ধে ফরাসি সরকার কোনও পদক্ষেপ করলে পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তাদের আইনজীবী। যদিও ফ্রান্সের সংগঠিত অপরাধ দমন শাখা ‘জুনালকো’ বিমানটির সঙ্গে কোনও অপরাধচক্র যুক্ত কি না, তার তদন্ত শুরু করেছে।

এমনিতে ফ্রান্সে মানবপাচারের জন্য কোনও ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের জন্য তাকে সাজা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে কেবল মানবপাচার নয়, ফরাসি প্রশাসন এই বিমান নিয়ে অন্য আশঙ্কাও করছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, বিমানের ভারতীয় যাত্রীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করতেন। তারা নিকারাগুয়া হয়ে আমেরিকা বা কানাডায় যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এই বিমানের যাত্রীরাও নিকারাগুয়া হয়ে জো বাইডেনের দেশে ঢোকার অনুমতি চাইতেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে যাত্রীদের প্রায় সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদের পর গত রবিবার বিমানটিকে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয় ফ্রান্সের একটি আদালত।

ফরাসি প্রশাসনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় তদন্তের প্রাথমিক পর্বে মানবপাচারের স্বপক্ষে এখনও পর্যন্ত জোরালো কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিমানকে ঘিরে যেভাবে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে আর একাধিক দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও যে ভাবে সেটি প্রভাব ফেলছে, তা নজিরবিহীন।

Scroll to Top