দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) শিরোপা জিতেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। শেষ রাউন্ডে আবাহনী লিমিটেড ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে ত্রিমুখী শিরোপা লড়াইয়ে নেমে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি আইনের সহায়তায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করে ঐতিহ্যবাহী সাদা-কালো শিবির।
শেষ রাউন্ডের আগে তিন দলেরই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ছিল। তবে মোহামেডানের জন্য সমীকরণ ছিল স্পষ্ট—আবাহনীকে হারাতে হবে এবং একই সঙ্গে প্রাইম ব্যাংককে হেরে যেতে হবে। দিনের শেষে দুটি ফলই তাদের পক্ষে আসে।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আবাহনীর বিপক্ষে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪৮ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে আবাহনীর বোলিং আক্রমণকে পুরোপুরি চাপে ফেলে দেন।
বিজয় ১১৫ বলে ১১টি চার ও ৯টি ছক্কায় ১৪১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সেঞ্চুরির সংখ্যায় তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে যান। অন্যদিকে ইমন খেলেন ১১৬ বলে ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ১২টি ছক্কা। শেষ দিকে আফিফ হোসেন ৩৩ বলে ৬১ এবং আনিসুল ইসলাম ১৬ বলে ৩০ রান যোগ করলে নির্ধারিত ওভারে বিশাল ৪০৭ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় মোহামেডান।
৪০৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবাহনী শুরু থেকেই চাপে পড়ে। ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৮ রান তুলতেই বৃষ্টি হানা দেয়। এর মধ্যে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মোসাদ্দেক হোসেনের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় দলটি। ওপেনার অনীক সরকার সর্বোচ্চ ৮৫ রান করেন।
বৃষ্টি থেমে গেলেও মাঠ খেলার উপযোগী না হওয়ায় ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে মোহামেডানকে ৬৩ রানে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে পাশের মাঠে প্রাইম ব্যাংকের সামনে ছিল শিরোপা জয়ের সুযোগ। তাদের শুধু ঢাকা লেপার্ডসকে হারালেই হতো। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান তোলে প্রাইম ব্যাংক। আজিজুল হাকিম তামিম ৭১, রায়হান রাফসান ৫৭ এবং আকবর আলী ৫১ রান করেন।
জবাবে ঢাকা লেপার্ডস আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। বৃষ্টি নামার আগে ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান সংগ্রহ করে তারা। ডিএলএস হিসাব অনুযায়ী এগিয়ে থাকায় ৯ রানের জয় পায় লেপার্ডস। এই পরাজয়ের ফলে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় প্রাইম ব্যাংকের।
দিনের দুই ম্যাচের ফল মিলিয়ে উৎসবে মাতে মোহামেডান শিবির। ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ঘরে তোলে দলটি। দীর্ঘ ১৭ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই ক্লাব।





