১২ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ লাঞ্চে গেল ৬ উইকেটে ৩৫ রানে

ম্যাকাই টেস্টের প্রথম সেশনেই মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ লাঞ্চে গেছে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে।

স্টার্কের গতি ও সুইংয়ের সামনে বাংলাদেশের টপ অর্ডার দাঁড়াতেই পারেনি। মাত্র ২২ বলের স্পেলে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং অর্ডারকে কার্যত ধসিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। ৪ ওভারে তিনটি মেডেনসহ মাত্র ৪ রান দিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন তিনি।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটাই ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে ফেরান স্টার্ক। পরের ওভারে টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দেন তিনি। প্রথম তিন ব্যাটারই ফেরেন কোনো রান না করে।

এরপর মুমিনুল হক ৯ রানে স্টার্কের শিকার হন। লিটন দাসও পাঁচ বল খেলে কোনো রান করতে পারেননি। ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১২ রানে ৫ উইকেট।

সেখান থেকে দলকে আরও বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে সাময়িকভাবে রক্ষা করেন মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ৪২ বল মোকাবিলা করে মাত্র ৫ রান করার পর ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে মুশফিকও ফিরে যান। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১ রান।

শেষ পর্যন্ত মিরাজ ও হাসান মাহমুদ লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১৪ রানের জুটিতে ৩৫ রানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত আছেন।

এই ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে ছিল আরও একটি বিব্রতকর রেকর্ডের শঙ্কা। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড ছোঁয়ার আশঙ্কা আপাতত কেটেছে। তবে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড এড়াতে এখনও প্রয়োজন আরও ৯ রান।

ম্যাকাইয়ে নামার আগে ডারউইন টেস্টে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। সেই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামলেও প্রথম সেশনেই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে।

Scroll to Top