মেটার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ ইউজারনেম ফিচার চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের ফোন নম্বর শেয়ার না করেই সংযুক্ত হতে পারবে। ফলে কথোপকথনে আরও গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে ও কম অনধিকারপ্রবেশমূলক হবে।
বিশ্বব্যাপী ৩ বিলিয়নেরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী রয়েছে বলে দাবি করা হয়, যারা এখন পর্যন্ত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ফোন নাম্বরের উপর নির্ভর করে এসেছে। এই আপডেটটি চালু হওয়ার ফলে কারো ফোন নাম্বার জানা যে কেউ তার সাথে এই অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে না।
কোম্পানিটি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, আসন্ন এই ফিচারটি “ব্যবহারকারীর ফোন নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।”
ভারতীয় ফিনটেক প্রতিষ্ঠাতা কুনাল শাহ মেটার হোয়াটসঅ্যাপের দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সর্বশেষ আপডেটটি এসেছে। কোম্পানিটি প্ল্যাটফর্মটির অনলাইন পেমেন্টের একটি বৃহত্তর অংশ দখল করার জন্য এটিকে একটি “সুপারঅ্যাপ”-এ পরিণত করতে যাচ্ছে।
এই আপডেটে কী পরিবর্তন আসছে?
এই আপডেটে প্রতিটি ব্যবহারকারী একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম রিজার্ভ করতে পারবেন। এরপর নতুন কোনো চ্যাট শুরু করার সময় ফোন নম্বরের পরিবর্তে শুধু সেই ইউজারনেমই ব্যবহার করা যাবে। এই ফিচার চালু হলে সেটিই ডিফল্ট পরিচয় হিসেবে কাজ করবে। এইভাবে অ্যাক্সেস সীমাবদ্ধ করার অর্থ হলো, আপনার নম্বর ব্যক্তিগত থাকবে, যদি না আপনি নিজে থেকে তা শেয়ার করতে চান।
ইউজারনেম কীভাবে কাজ করবে?
ব্যবহারকারীরা একটি অনন্য ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন, যা অন্যরা ফোন নম্বরের পরিবর্তে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করতে পারবে। ইউজারনেম অবশ্যই তিন থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে হতে হবে।
মূলত, এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় গোপনীয়তা রক্ষার একটি বৈশিষ্ট্য হিসাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনুসন্ধানযোগ্য ডিরেক্টরি বা সাজেশন নেই।
প্রথমবারের মতো কারো সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার সঠিক ইউজারনেম জানতে হবে। এক্ষেত্রে একজন ব্যবহারকারী কে তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি “ইউজারনেম কী” সেট করতে পারবে। তাদের ইউজারনেমের মাধ্যমে প্রথমবার মেসেজ পাঠানোর জন্য এই কী-এর প্রয়োজন হবে। যেকোনো সময় কী পরিবর্তন করা যাবে।
ফিচারটি চালু হয়ে গেলে, কেউ যদি একটি ইউজারনেম ব্যবহার করে, তাহলে প্রথমবার কাউকে বা কোনো ব্যবসায়িক মেসেজ করার ক্ষেত্রে তার ফোন নাম্বার দেখা যাবে না।
হোয়াটসঅ্যাপ আরও বলেছে যে, বেশিরভাগ অনেকেরই আলাদা ইউজারনেম বেছে নেওয়া উচিত যা শুধুমাত্র বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের সাথেই শেয়ার করা হয়। প্রয়োজনে, ব্যবহারকারীদের ইউজারনেম তৈরি করতে সাহায্য করার জন্য অ্যাপটি একটি ইউজারনেম জেনারেটরের সুবিধা দেবে।
নিয়মানুযায়ী অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণে আপডেট করে ‘সেটিংস’ থেকে ইউজারনেম রিজার্ভ করার সুযোগ পাবেন। এর জন্য অ্যাকাউন্ট অপশনে গিয়ে ইউজারনেম সেকশন ব্যবহার করতে হবে। তবে এ বছরের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গভাবে ফিচারটি কার্যকর হতে পারে।
ব্যবসা, ক্রিয়েটর এবং সংস্থাগুলোর জন্য কী হবে?
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে যে, ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকে যাদের আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট আছে, সেইসব কোম্পানি, সংস্থা এবং ক্রিয়েটররা হোয়াটসঅ্যাপে তাদের ইউজারনেম বাছাই করার সুযোগ পাবেন।
এক্ষেত্রে যেকোন অপব্যবহার রোধ করতে, হোয়াটসঅ্যাপ কিছু নির্দিষ্ট ইউজারনেম সংরক্ষিত রাখবে। এর মধ্যে সেলিব্রিটি, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সরকারি সংস্থার মতো উচ্চ-পদস্থ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত নামগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে ছদ্মবেশ ধারণের ঝুঁকি কমানো যায়।
এই ফিচারটি চালুর সময়সূচী
এটি পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। এই সপ্তাহ থেকে ব্যবহারকারীরা একটি ইউজারনেম রিজার্ভ করতে পারবেন। ফিচারটি এই বছরের শেষের দিকে চালু হবে। পরবর্তী মাসগুলোতে এটি ধীরে ধীরে চালু করা হবে। বিভিন্ন দেশে এটি কার্যকর হলে অ্যাপের মাধ্যমে জানানো হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, “হোয়াটসঅ্যাপে তিন বিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী থাকায় অনেক নামের মধ্যে মিল থাকে। তাই আমরা আগেভাগেই রিজার্ভেশন চালু করছি যাতে প্রত্যেকে তাদের পছন্দের ইউজারনেমটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়।”
আগেভাগে রিজার্ভেশন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হোয়াটসঅ্যাপে অসংখ্য ব্যবহারকারী থাকায় একই ধরনের নাম বেছে নিতে পারেন, তাই আগেভাগে রিজার্ভ করলে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ইউজারনেম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
হোয়াটসঅ্যাপ প্রধান কুনাল শাহ এক্স-এ বলেছেন, “সময়ই সব। আমরা এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার আগেই আপনার পছন্দের ইউজারনেমটি নিজের করে নিতে আগেই হোয়াটসঅ্যাপে যোগ দিন।”





