ওয়ার্ড-১–এর একটি শয্যায় জেলার দেবীদ্বারের জয়পুর গ্রামের চার মাস বয়সী যমজ শিশু আইয়ুব ও এয়াকুবের চিকিৎসা চলছে। শিশুদের বাবা মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রথম আলোকে বলেন, দুই দিন আগে হামের লক্ষণ দেখে দুই শিশুকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক হামের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা মেডিকেলে নিয়ে আসতে বলেন। এরপর তিনি এখানে নিয়ে এসেছেন এবং অনেক কষ্টে একটি শয্যা পেয়েছেন। কিন্তু এখানে চিকিৎসা পেতে চরম কষ্ট হচ্ছে। এরপরও ভালো চিকিৎসক থাকায় কষ্ট করে পড়ে আছেন।
আরও কয়েকজন শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ার্ড-১-এ থাকা বেশির ভাগ রোগীর বাড়িই দেবীদ্বারে। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লা পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এক বছর বয়সী শিশু হুমায়রা আক্তারকে নিয়ে এসেছেন দেবীদ্বারের বাসিন্দা শিউলি আক্তার। তিনি বলেন, ‘জ্বর আর শরীরে র্যাশ দেখে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেছিলাম। পরে সেখানে বলল, কুমিল্লায় নিয়ে যান। এভাবে কুমিল্লায় নিয়ে আসা। এখন মেয়ে কিছুটা ভালো আছে। কিছুটা কষ্ট হলেও এখানে চিকিৎসা ভালো।’
একই উপজেলা থেকে ১০ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তারকে নিয়ে এসেছেন তার চাচি নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, মেয়েটিকে হামেরা টিকা দেওয়া হয়নি ছোটবেলায়। কয়েক দিন ধরে জ্বর, কাশি, সর্দি। তিন দিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক কুমিল্লায় পাঠান। এরপর এখানে নিয়ে এসেছেন। শয্যা পাননি, যার কারণে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গরমের মধ্যে একটি কক্ষে এতগুলো মানুষের চিকিৎসা অনেক কষ্টের। রোগী ২০ জন হলে মা–বাবাসহ স্বজনেরা আছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। সব মিলিয়ে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই।





