
রাবাত, ১৯ জুন – বিশ্ব ফুটবলের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মরক্কো এখন আর কেবল অংশগ্রহণকারী দল নয় বরং এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে থাকা উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ শুক্রবার স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে।
আসরের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে এক এক গোলে ড্র করার পর মরক্কোর লক্ষ্য এখন পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করা। এই ম্যাচে জয় পেলে তাদের জন্য নকআউট পর্বের পথ অনেকটাই প্রশস্ত হবে যেহেতু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের লড়তে হবে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হাইতির বিপক্ষে।
ম্যাচটি ঘিরে মরক্কোর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কমন পার্কে কয়েক শ সমর্থক একত্রিত হয়ে আনন্দ মিছিলে অংশ নেন। লাল ও সবুজ রঙের ধোঁয়া উড়িয়ে তারা তাদের দলের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
সমর্থকদের বিশ্বাস মরক্কোর বর্তমান দলে আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজের মতো বিশ্বমানের ফুটবলার থাকায় যেকোনো দলকে হারানোর সক্ষমতা রাখে তারা। মরক্কোর ফুটবলের এই অগ্রযাত্রার মূলে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। বিশেষ করে ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ সিক্স ফুটবল একাডেমি দেশটির ফুটবলের চেহারাই বদলে দিয়েছে।
১৯৯৮ সালের পর দীর্ঘ বিশ বছর বিশ্বকাপ থেকে দূরে থাকা মরক্কো ২০১৮ সালে পুনরায় বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসে। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তারা বেলজিয়াম স্পেন ও পর্তুগালের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস সৃষ্টি করে।
শুধু মূল দল নয় মরক্কোর অনূর্ধ্ব বিশ দলও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করছে যা দেশটির ফুটবলের শক্তিশালী কাঠামোরই বহিঃপ্রকাশ। আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ মরক্কো স্পেন ও পর্তুগাল যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে।
সমর্থকদের মতে মরক্কো এখন কেবল নিজেদের সাফল্য নয় বরং গোটা আফ্রিকা মহাদেশের জন্য একটি অনুপ্রেরণার নাম। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যে ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব মরক্কো তার অন্যতম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এস এম/ ১৯ জুন ২০২৬







