ঢাকা: ঢাকার একটি আদালত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৪ মে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা, রমনা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম খন্দকার আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগে। এতে তার স্ত্রী সামীরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লিও (লুসি) এবং চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, যেদিন চিত্রনায়ক সালমান শাহ ঢাকার নিউ ইস্কাটনের বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। সে সময় তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। তবে পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান।
পরে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং ২৫ নভেম্বর আদালত তা গ্রহণ করেন। কিন্তু ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে ভিকটিমের পরিবার রিভিশন আবেদন করে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা বাসায় গিয়ে জানতে পারেন সালমান ঘুমাচ্ছেন। পরে খবর পেয়ে ফিরে এসে তারা তাকে নিথর অবস্থায় পান। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান।
এ মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শিল্পপতি ও সাবেক প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, রুবি, জাভেদ, ফারুক, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ ফরহাদসহ আরও অনেকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষা চলছে।





