পুঠিয়া থেকে ফিরে: টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পৌষের শেষ সময় এবং মাঘের শুরুতে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। অতিকষ্টে দিন পার করছেন দরিদ্ররা। হিমেল হাওয়ার সাথে ঘন কুয়াশার শীত পৌঁছেছে চরম পর্যায়ে।
আর এমন পরিস্থিতিতেও বসে নেই রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের পেঁয়াজ চাষীরা। প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। শীত উপেক্ষা করে পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে কাজ করছেন শ্রমিকরাও।
বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১ টা। তখনও সূর্যের দেখা নাই। আর এমন দৃশ্য শুধু সেদিনের নয়, সপ্তাহের বেশি সময় ধরে। কুয়াশার সাথে হিমেল হাওয়ায় অনুভূত হচ্ছে প্রচন্ড শীত। কিন্তু এদিন ওই ইউনিয়নের ছোট কাজুপাড়ায় গেলে দেখা যায় রাস্তার ধারের জমিতে সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজ রোপণ করছেন কৃষকরা। পড়নে সাধ্যের মধ্যে নেওয়া শীতের পোশাক। প্রত্যেকের হাতে পেঁয়াজ রোপনের মাটি খননের পাশুন জাতীয় বিশেষ যন্ত্র। যা দিয়ে বসে বসেই একেবারেই ছোট আকারে নালা করা হচ্ছে। তারমধ্যে রোপণ করা হচ্ছে পেঁয়াজের পুল (চারা)। কৃষকদের সাথেই একাকার হয়ে কাজ করছেন জমির মালিকরাও (পেঁয়াজ চাষী)। এসময় কয়েকটি জমিতে দুই একজন করে নারী শ্রমিককেও কাজ করতে দেখা গেছে।
এছাড়া পেঁয়াজ রোপনের অপর একটি জমিতে দেখা যায়, জমিতে বসেই ভাত খাচ্ছেন বেশ কয়েকজন কৃষক (শ্রমিক)। জমির মালিক পেঁয়াজ চাষী আব্দুল কৃষকদের এই খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
শ্রমিক আফতাব হোসেন বলেন, ‘আমরাও মানুষ আমাদেরও শীত করিছে (লাগছে)। কি করমু কাজতো করতি হবি (করতে হবে)। কাজ না করলে খামু (খাব) কি?’ তবে মাঝে মাঝে আগুন জ্বালিয়ে হাত-পা গরম করে নেওয়ার কথা জানানন শ্রমিকরা।
পেঁয়াজ চাষি (জমির মালিক) আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমি আজ (বৃহস্পতিবার) ১৫ কাটা জমিতে পেঁয়াজ লাগাচ্ছি। শ্রমিকরা সকাল ৭ থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত কাজ করবে। একবেলা খেয়ে দিন হাজিরা ৫০০ টাকা। অনেক সময় শ্রমিকের মজুরি বেশিও হয়ে থাকে। বাড়িতে গেলে কামের (কাজের) সময় নষ্ট হয়, এছাড়া অনেকের বাড়ি দূরে তাই এখানে ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করেছি।’
অপর চাষি আব্দুল বারেক বলেন, ‘আমি দেড় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছি। হাল, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক ও অন্যন্য খরচসহ পেঁয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘা প্রতি উৎপাদন হয় ১০০ থেকে ১২০ মণ পেঁয়াজ। যার দাম বিভিন্ন সময় বিভিন্নটা হয়ে থাকে।’
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে এই কৃষক বলেন, চাষিদের সব চেয়ে বড় সমেস্যা সার-কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি। তার উপর যদি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। তাহলে তাদের চরম লোকশানে পড়তে হয়।
তবে, তিনি জানান গেল মৌসুমে লাভবান হয়েছে ওই এলাকার পেঁয়াজ চাষিরা। তার দাবি, ভারত থেকে আমদানি বন্ধ এবং সার-কীটনাশকের দাম কমানো গেলে পেঁয়াজের মূল্য স্বাভাবিক থাকলেও তারা লাভবান হবেন।
পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী সরকার মুঠোফোনে বার্তা২৪ কে বলেন,’ পৌষের মাঝ সময় থেকে মাঘের মাঝামাঝি সময়ে পেঁয়াজ রোপনের উৎকৃষ্ট সময়। কেউ কেউ নভেম্বরে আগাম চাষও করে থাকে। এই এলাকার পেঁয়াজের উৎপাদন অনেক ভাল। কৃষক লাভবানে আমরা প্রণোদনাসহ কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে থাকি।’





