চলতি মাসে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন এলাকায় গিয়ে সেখানকার আরও তিনজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলেন প্রথম আলোর এই প্রতিবেদক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই তিন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বাড়বকুণ্ডে কারখানা করার জন্য যিনি জমি কিনবেন, তাঁকে চাঁদা দিতে হয়। যিনি জমি বিক্রি করেন, তাঁকেও চাঁদা দিতে হয়। কারখানা করার জন্য জমিতে বালু ভরাটের কাজ ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজনকে দিতে হয়। তাঁর লোকজনকে কারখানায় চাকরি দিতে হয়। কিন্তু তাঁরা কাজ না করে সারাক্ষণ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকেন। তবে বেতন ঠিকই নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দিবসে অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে চাঁদা তোলেন ইউপি চেয়ারম্যান।
ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার নির্ধারিত টাকার বাইরে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তিনি বা তাঁর লোকজন কোনো কারখানা থেকে চাঁদা তোলেন না। অন্য অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
তবে মুঠোফোনে গোপনে ধারণ করা এক ভিডিওতে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য একজনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাইতে শোনা যায়। আরও বলা হচ্ছিল, এখানে জমি কিনলে ও বেচলে কমিশন দিতে হয়। টাকা দাবি করা ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যান বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর ভাষ্য।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে কারখানার বিরুদ্ধে পরিবেশদূষণের অভিযোগ তোলেন ইউপি চেয়ারম্যান ছাদাকাত। তিনি তাঁর লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সেই কারখানার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন, নানা অপপ্রচার চালান।
অবশ্য ড্রেজার মেশিন দিয়ে সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করে নিচু জমি ভরাট করায় গত মার্চ মাসে বাড়বকুণ্ড ইউপির চেয়ারম্যান ছাদাকাতসহ তিনজনকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাদাকাত প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর এলাকায় বালু দিয়ে জমি ভরাট করার কাজ অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।
চাঁদাবাজিসহ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন আজ বুধবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখানে (থানা) নতুন এসেছি। আমি এখানে আসার পর এখন পর্যন্ত চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।’





