শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও প্রবীণ শিক্ষকনেতা কাজী ফারুক আহমেদ। তিনি বলেন, জাতীয়করণ আর সরকারীকরণ কি এক? যেখানে স্বায়ত্তশাসন নেই, যেখানে শিক্ষকের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নেই, সেটিকে জাতীয়করণ বলতে তিনি রাজি নন।
বিআইডিএসের গবেষক জুলফিকার আলী বলেন, শিক্ষা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ধরুন আগে একধরনের ব্যবস্থা ছিল, পরে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হলো। আজকে বলা হচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতি কাজ করছে না। নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নামে পাবলিক পরীক্ষা ছিল। তারপর পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা চালু করা হলো। আজকে এসে বলা হচ্ছে এটি সঠিক ছিল না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাপনাসহ পুরো বিষয়টির নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা দরকার।
একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর বইয়ের উচ্চশিক্ষার অংশ নিয়ে আলোচনা করেন বিআইডিএসের গবেষক শিবান শাহানা। তিনি বলেন, প্রায় ২৩ শতাংশ তরুণ–তরুণী বা যুবসমাজ উচ্চশিক্ষার জন্য আসছেন। কিন্তু তাঁরা যখন উচ্চশিক্ষা সমাপ্ত করছেন, তার দুই–তিন বছরেও প্রায় ২৮ শতাংশ, আরেকটি গবেষণার তথ্যানুযায়ী প্রায় ৬৬ শতাংশের মতো কাজ পাচ্ছেন না।
মানবাধিকারকর্মী শিপা হাফিজা বলেন, লৈঙ্গিক সমতা, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষায় সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি ছেলে আরেকটি মেয়েকে বিদ্রূপ করছে, কৌতুক করছে, হয়রানি করছে। কিন্তু ছেলেরা এ নিয়ে কিছু বলে না। কিন্তু জানে, এটি অন্যায়। কেন বলে না, কারণ স্কুলে শেখায়নি। তাই এ বিষয়টিও শেখাতে হবে।


