
ইসলামাবাদ,২৬ অক্টোবর-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের নায়ক অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শাদাব খান। তাঁর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে হারের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শাদাবের এমন অবিশ্বাস্য ইনিংসে মুগ্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো এমন ইনিংস দেখেননি।
রোববার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে দলটি। সেখান থেকে শেষ উইকেটে হারিস রউফকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন শাদাব।
৯৬ বলে ১৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কায় ১১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ২৮ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটাই তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে ওয়ানডেতে আট নম্বর বা তার পরের অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে যখন পাকিস্তানের জয়ের আশা প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন শাদাব। নবম উইকেটের পতনের পর অনেক দর্শক মাঠ ছেড়ে চলে গেলেও লড়াই চালিয়ে যান তিনি। অন্য প্রান্তে হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে একের পর এক দারুণ শট খেলে পাকিস্তানকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান এই অলরাউন্ডার।
ম্যাচের ৪৫তম ওভারে গাস অ্যাটকিনসনকে ছক্কা মেরে ৯৭ রানে পৌঁছান শাদাব। পরের বলেই তাঁকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েছেন বলে মনে হয়েছিল। আম্পায়ারও তাঁকে আউট ঘোষণা করেন। শাদাব নিজেও আউট হয়েছেন ভেবে হতাশায় ব্যাট দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন। দুই দলের ক্রিকেটাররা হাত মেলানোও শুরু করেছিলেন। তবে রিভিউ নেওয়ার পর রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি আগে তাঁর ব্যাটে লেগেছিল। এতে জীবন ফিরে পেয়ে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি এবং দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শাদাবের প্রশংসা করেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।
তিনি বলেন, ‘আমি কিছু বলতে পারছি না। শাদাব ও হারিস যেভাবে ম্যাচটি শেষ করেছে, তাদের জুটিটা ছিল ৮৯ বা ৯০ রানের মতো। তবে আমার ক্যারিয়ারে, এমনকি ছোটবেলা থেকেও জীবনে এমন ইনিংস আর কখনো দেখিনি। অধিনায়ক হিসেবে আমি সত্যিই খুব খুশি।’
নিজের ইনিংস নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করার পাশাপাশি জয়ের কৃতিত্ব হারিস রউফকেও দিয়েছেন শাদাব। তাঁর মতে, দল জিতলেই একটি ইনিংস পরিপূর্ণতা পায়।
শাদাব বলেন, ‘একটি ইনিংস তখনই উপভোগ্য হয়, যখন দল জেতে। তাই আমি খুবই খুশি যে এমন একটি ইনিংস খেলতে পেরেছি এবং আমরা ম্যাচটি জিতেছি।’
শেষ উইকেটে হারিসের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমার চেয়ে হারিসের বেশি কৃতিত্ব প্রাপ্য। কারণ, শেষ দিকে ব্যাট করতে নামা ব্যাটাররা সবসময় ছক্কা মারার চেষ্টা করে। আমি তাকে যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছিলাম, অথবা সে আমাকে যেভাবে সাহায্য করছিল, তাতে আমরা বেশ ভালো একটি জুটি গড়ে তুলতে পেরেছিলাম।’
শেষ পর্যন্ত চার মেরে পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করেন হারিস রউফ। ১৯ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। শাদাব জানান, ব্যাটিংয়ের সময় তাঁদের দুজনের মধ্যে বেশ মজার কথাবার্তাও হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে যতটা বোঝাচ্ছিলাম, তার চেয়ে বেশি সে আমাকে বোঝাচ্ছিল। সে এমন সব কথা বলছিল, যা আমার মনে হয় না সরাসরি সম্প্রচারে প্রকাশ করা যাবে। আমাদের মধ্যে অনেক মজার মুহূর্ত ছিল এবং আমরা সত্যিই খুব উপভোগ করেছি। ক্রিকেটের চেয়ে অন্য বিষয় নিয়েই আমরা বেশি কথা বলেছি।’
এস এম/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬




