ডারউইনে ব্যাট-বলের দারুণ লড়াইয়ে নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইককে হারিয়ে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান অফস্পিনার মোহাম্মদ রুবেলের। দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক তিনি।
মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইককে ৩ উইকেটে হারায় বাংলাদেশ এইচপি। ছয় ম্যাচে এটি তাদের পঞ্চম জয়। ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করা নর্দার্ন টেরিটরি স্ট্রাইক শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে চাপে ছিল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৩ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিক দল। জর্ডান সিল্কের ৩১ রান ছিল তাদের ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ম্যাট হ্যামন্ড ২৬ ও কেলান ম্যাকমাহন করেন ২৫ রান।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের সামনে নর্দার্ন টেরিটরির ব্যাটিং লাইনআপকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন রুবেল। দুই দিকে বল ঘোরানোর দক্ষতায় প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বেশ বেকায়দায় ফেলেন এই অফস্পিনার। চার ওভারের স্পেলে মাত্র ২১ রান খরচ করে তুলে নেন ৫ উইকেট। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও যায় তার হাতে।
টুর্নামেন্টে এর আগেও নজর কেড়েছেন রুবেল। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে তার নামের পাশে এখন ২০ উইকেট।
১৪৪ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের জন্য অবশ্য একেবারে সহজ ছিল না। রান তাড়ায় শুরুতেই উইকেট হারায় এইচপি। আরিফুল হক ৬ বলে ১০ রান করে ফেরার পর হাবিবুর রহমান সোহান ২২ এবং শামিম হোসেন ১১ রান করে আউট হন। এতে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেই চাপ সামাল দেন সাব্বির রহমান। এক প্রান্ত ধরে রেখে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ফিফটি থেকে মাত্র তিন রান দূরে থামলেও তার ৩৭ বলে ৪৭ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাব্বির ফেরার পরও জয় থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না বাংলাদেশ। এস এম মেহরব ৮ রান করে বিদায় নিলেও অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের ১৭ এবং সামিউন বশিরের ১৪ রান জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়।
শেষদিকে আবদুল গফফার সাকলায়েন ৪ বলে অপরাজিত ৬ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ১০ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এই জয়ের ফলে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশের এইচপি এখন শিরোপার লড়াইয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
