এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রাশিয়া এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে সহায়তার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি জানায়, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনীয় বিশেষ বাহিনী এবং সন্ত্রাসী ও চরমপন্থি সংগঠন পরিচালিত বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংস্থাটির।
এফএসবির দাবি, এসব কার্যক্রমের মধ্যে নাশকতা, সন্ত্রাসী হামলা, গণহত্যা এবং সাইবার জালিয়াতির মতো অপরাধও রয়েছে।
এ বিষয়ে দুরভ বা টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে অভিযোগ ঘোষণার পর টেলিগ্রামের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দুরভের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে মধ্যমা আঙুল প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
রাশিয়া এমন সময়ে এই পদক্ষেপ নিল, যখন দেশটি টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে সরকার সমর্থিত ম্যাক্স নামের নিজস্ব মেসেজিং সেবার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাক্স ব্যবহারকারীর তথ্য সরকারি সংস্থার অনুরোধে সরবরাহ করার নীতি অনুসরণ করে এবং এতে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন না থাকায় ব্যক্তিগত বার্তার গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এর আগে রাশিয়া এক্স, ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবার ওপরও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে।
রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া দুরভ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্সের নাগরিক। তিনি ২০১৩ সালে টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি রাশিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকনতাকতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০১৪ সালে রুশ কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে প্রতিষ্ঠানটির অবশিষ্ট মালিকানা বিক্রি করেন বলে জানা যায়।
দুরভের দাবি, ২০১৪ সালে ইউক্রেনের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের অ্যাকাউন্টের তথ্য রুশ কর্তৃপক্ষকে দিতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
চলতি বছরের শুরুতে দুরভ জানান, রুশ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। তার অভিযোগ, টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার সীমিত করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের উদ্দেশ্যে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার পাশাপাশি ফ্রান্সেও দুরভ আইনি তদন্তের মুখোমুখি। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। তবে দুরভ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দুরভ দীর্ঘদিন ধরেই টেলিগ্রামে সীমিত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের নীতি অনুসরণ করে আসছেন। তিনি প্ল্যাটফর্মটিকে গোপনীয়তা ও সেন্সরশিপমুক্ত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরলেও, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই নীতির কারণে টেলিগ্রাম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর সক্রিয়তার অন্যতম প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।





