রমজানে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

রমজানে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি নিয়ে শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

রমজানকে সামনে রেখে ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ আট খাদ্যপণ্য বাকিতে আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব পণ্যের মধ্যে তিনটির শুল্ক মওকুফের আবেদনও করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)। তবে ডলারের উচ্চমূল্য ও ভারত অংশে খাদ্যদ্রব্যের ওপর নানান শর্ত বহাল থাকায় চাহিদামত পণ্য আমদানি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্যিক সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈশ্বিক মন্দা আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে প্রতিদিন লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্য খাদ্য পণ্যের দাম। আর এ অবস্থার মধ্যে মার্চ মাসে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। তবে এসময় নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে কম মূল্যে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য ক্রয় করতে পারেন তার জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ীদের বাকিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৮টি খাদ্যদ্রব্য আমদানির সুযোগ। এগুলো হচ্ছে খেজুর, চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, পেঁয়াজ, ডাল, মটর ও মসলা জাতীয় পণ্য।

এছাড়া এই আট পণ্যের মধ্যে রমজানে বেশি ব্যবহৃত খেজুর, চিনি ও ভোজ্যতেলের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক মওকুফের জন্য বাণিজ্য মন্ত্র্রণালয় আবেদন করেছে এনবিআরে।

রমজান উপলক্ষে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ছোলাসহ বিভিন্ন খাদ্যের আমদানি। তবে ডলারের উচ্চমূল্য ও ভারত অংশে খাদ্যদ্রব্যের ওপর নানান শর্ত বহাল থাকায় চাহিদামত পণ্য আমদানি নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। নানান জটিলতায় ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চিনি আমদানি, ভারতে অতিরিক্ত শুল্ককর আরোপে পেঁয়াজের স্বাভাবিক আমদানি বন্ধ, মসলা জাতীয় পণ্যের ওপরও রয়েছে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক।

বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, পবিত্র রমজানে ইফতারে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল, দুই লাখ মেট্রিক টন চিনি এবং ১ লাখ মেট্রিক টন ছোলার চাহিদা রয়েছে। এসব আমদানিতে সরকার যেসব সুবিধা দিয়েছে তাতে আমরা খুশি। তবে ডলারের দাম না কমলে ও ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে যে জটিলতা আছে তা না কাটলে চাহিদা মত পণ্য আমদানি কষ্ট হয়ে পড়বে।

আমদানিকারক উজ্বল বিশ্বাস জানান, ডলারের সরকারি রেট ১১৫ টাকা হলেও ব্যাংকে পরিশোধ করতে হচ্ছে ১২৬ থেকে ১২৮ টাকা পর্যন্ত। চড়া দামে কিনে কিভাবে কম দামে বিক্রয় সম্ভব! এছাড়া ভারত সরকার প্রতি টন পেঁয়াজ রফতানিতে শুল্ক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৮৫০ ডলার। যার কারণে ৬ মাস ধরে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারছিনা। বিভিন্ন জটিলতায় ভারত থেকে চিনি ও চাল আমদানিও বন্ধ আছে।

ছোলা আমদানিকারক রহমত জানান, ভারত থেকে আমদানি করা ছোলা বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে ৮৯ টাকা। বন্দর থেকে বিক্রি করা হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের বেনাপোল শাখার ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বার্তা২৪.কমকে জানান, রমজানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানিকারকদের পণ্যের এলসি খুলতে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বেনাপোল উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী হেমন্ত কুমার সরকার জানান, রমজানকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ছোলাসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য আমদানি শুরু হয়েছে। মান পরীক্ষা করে দ্রুত বন্দর থেকে ছোলাসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ছাড়করণে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

Scroll to Top