যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে এবং সম্পর্ক ভাল করার জন্য আমরাও যথেষ্ট ধৈর্যশীল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে ডাকা এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দুইমুখী নীতি নিচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সেটা আমি ঐভাবে বলতে চাইনা। আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ও বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়। বঙ্গবন্ধু যে নীতি রেখে গেছেন আমাদের সংবিধানে আমরা সেই নীতিতেই অটল আছি। আমরা সবার সঙ্গেই বন্ধুত্ব রাখতে চাইবো। আমরা অহেতুকে এই সংকট সংকুল বিশ্বে নতুন সংকটে পা দিতে চাই না।’
‘তাদের কেউ বলছে যা হয়েছে ঠিকই আছে আবার কেউ বলছে অবাধ হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তারপর পিটার হাস প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের প্রতিনিধি এম্বাসেডর বলছে সম্পর্ক আরও নিবিড় করার পদক্ষেপ তারা নিবে। একটা বক্তব্যের উপর একটা দেশের নীতিমালা একই রকম হবে, এটা নাও হতে পারে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আছে এবং সম্পর্ক ভাল করার জন্য আমরাও যথেষ্ট ধৈর্যশীল।’
যেটা মূল সংকট সেটা আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পেরিয়ে এসেছি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রাকৃতিক হাহাকার সেটা যে কবে থামবে, যুদ্ধের ফলে মানবজাতির উপর যে সংকট অনিবার্যভাবে নেমে এসেছে সে সংকটের ইতি কথা আমরা কেউ ই জানি না। এখানে আমাদের সকলেরই ধৈর্য ধারণ করা উচিৎ।’
তিনি বলেন, ‘দায়িত্বশীল যারা তাদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা উচিৎ। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলে, বিশেষ করে তারা যদি রাজনৈতিক ব্যক্তি হন তাহলে সেটা দেশের জন্য মোটেই শুভ নয়।’
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আজকে প্রধান ইলেকশন কমিশনার একটা কথা বলেছেন আমরা সে বক্তব্যের সমালোচনা করবো না। কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের ভিন্নমত আছে তারপরও এই ইলেকশন কমিশন একটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন হিসেবে সংকটে বিরাট একটা দায়িত্ব পালন করেছেন, সে জন্য তাদের আমরা আবারও ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই।’
বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা ছিলো এদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অপকৌশল পরাজিত হলেও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তারা ও তাদের দোসররা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। মঈন খান (বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান) বলেন, এই দেশের মানুষ ৭ জানুয়ারি তাদের ভোট না দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের মুখে কলঙ্ক লেপে দিয়েছেন। এই কথাটা কি তিনি সত্য বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যে টার্ন আউট তার (মঈন খান) এই মিথ্যা বক্তব্যকে তার নিজের মুখেই কলঙ্ক লেপে দিয়েছেন। যেখানে টার্ন আউট ছিলো আশাব্যঞ্জক। তিনি যে বলছেন, নির্বাচন কে বিশ্ববাসী নাটক প্রহসন বলেছেন, কোন দেশ সেটা বলেছে? নাকি তার সাজানো বক্তব্য, সেটাই আমাদের প্রশ্ন? ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে রিচার্ড হোয়াইটলি দেখা করে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও উচ্চতায় যাবে। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোও সমর্থন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।’
বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা থেকে ফিরে এসে দ্রব্যমূল্য দাম বৃদ্ধিসহ দেশে নানা সংকট তৈরি করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা তাদের কৌশল হতে পারে। সহিংসতা, অগ্নিসন্ত্রাস বন্ধ আছে এটা পার্মানেন্ট এমন কথা এখনো বলা যায় না কারণ তাদের যে কর্মসূচি তারা হয়তো প্রস্তুত হচ্ছে বড় ধরনের সহিংসতায় লিপ্ত হতে। সে জন্য হয়তো ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, উপর দিয়ে কথাবার্তা বলছে। তারা চাইছে, তাদের লোকজন এখন জেলে তাদেরকে মুক্ত করতে, তারা শক্তি সঞ্চয় করছে, আমার কাছে সেটাই মনে হচ্ছে।’
বিএনপিকে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার আহ্বান জানাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের কাছে আহ্বান জানিয়ে কি কোন লাভ আছে? তারা কি ভাল কথায় কান দিবে? তাদের যদি বলি আগুন সন্ত্রাস করো, সেটাই করবে, না বললেও করবে। তাদের প্রতি আমাদের এই মুহুর্তে কোন আহ্বান নেই।’


