আমার বন্ধু নাঈমকে মার্সেল–ক্লোয়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া দরকার। তাই নাঈমের খোঁজে বের হলাম। নাঈম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। পিরোজপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে পড়ত। এখন পুরোদস্তুর মার্কিন। পৃথিবীর কোনো কিছুতে তার আগ্রহ নেই। মুখে পুরু সানস্ক্রিন মেখে জাহাজের ডেকে সে আধশোয়া। ওকে ডেকে নিয়ে মার্সেল আর ক্লোয়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম।
আমরা বাংলাদেশ থেকে এসেছি জানালে মার্সেল বিস্ময় চেপে না রেখে বললেন, ‘পৃথিবীর ঠিক অপর প্রান্ত থেকে চলে এসেছ যে!’
একসময় জাহাজের গতি কমে এল। দূরে দেখা গেল পাহাড়ের মতো এক অবয়ব। ধীরে ধীরে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে যেন ভেসে উঠল ঠাসবুনোট বনের এক দ্বীপ। আরও কাছে গেলে দেখলাম, সারি সারি সেইল বোট আর সাদা ইয়ট নোঙর করে রাখা। জাহাজ থেকেই পাহাড়ি উপত্যকাজুড়ে ঘরবাড়িগুলো স্পষ্ট হতে থাকল।
মার্সেল বললেন, ‘দ্বীপের এই শহরের নাম অ্যাভালন। পুরোটা ঘুরে দেখো, ভালো লাগবে। আর জানো তো, প্রাচীনকালে জলদস্যুরা এ দ্বীপে গুপ্তধন লুকাতে আসত। লোকে এখনো গুপ্তধনের খোঁজে এখানে আসে।’
এই প্রথম নাঈমের চোখে–মুখে আগ্রহ দেখা গেল। যাকে হাতি দিয়েও টেনে তোলা যায় না, সে–ই ব্যাকপ্যাক নিয়ে জাহাজ থেকে নামার জন্য তাড়া দিতে থাকল।




