এমন উভয়সংকটে আগে কখনোই পড়েননি তিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কাকে সমর্থন দেবেন ইংলিশ কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম? ইন্টার মায়ামির অন্যতম এই মালিক এখন পড়েছেন বড় বিপাকে। একদিকে লিওনেল মেসি, তার ক্লাব ইন্টার মায়ামির সবচেয়ে বড় তারকা। অন্যদিকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মেসিদের প্রতিপক্ষ বেকহ্যামের দেশ ইংল্যান্ড। তাই সেমিফাইনালের আগে বিশ্ব মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মেসি-বেকহ্যাম জুটি।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জার্সিতে নিজের লাল কার্ডের সেই তিক্ত স্মৃতি হোক কিংবা ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’—আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই ফুটবল বিশ্বের ঐতিহাসিক এক স্নায়ুযুদ্ধ। সেই লড়াইয়ে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছেন মেসি। একদিকে মায়ামির প্রজেক্টকে বিশ্বজয়ী করা মেসি, অন্যদিকে বেকহ্যামের ইংল্যান্ড। ৯০ মিনিটের এই লড়াইয়ের জন্য দুই বন্ধু যে আপাতত দুই মেরুতে অবস্থান করছেন, তা বলাই বাহুল্য।
ইন্টার মায়ামির মালিক হিসেবে বেকহ্যাম মেসির প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা বারবার প্রকাশ করেছেন। আর্জেন্টাইন তারকাকে তিনি ‘খুবই বিশেষ একজন মানুষ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কিন্তু যখন প্রশ্নটি আসে নিজ দেশ ইংল্যান্ডের, তখন পেশাদার সম্পর্কের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে জাতীয় পতাকা।
মেসি যখন ২০২৩ সালে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, তখন ক্লাবটি এমএলএসে তেমন কোনো সাফল্য পায়নি। মেসি এসেই লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড ও এমএলএস কাপ জেতানোর মাধ্যমে ক্লাবটির রূপ বদলে দিয়েছেন। বেকহ্যাম মায়ামির ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, আর মেসি তাতে যোগ করেছেন বিশ্বমানের ফুটবল। অন্যদিকে এবারের বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সী মেসি পুরো আর্জেন্টিনাকে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
একদিকে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের মহাকাব্যিক সমাপ্তি টানার স্বপ্ন, অন্যদিকে বেকহ্যামের মাতৃভূমির বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষা। আটলান্টায় বুধবারের সেই রাতে মায়ামির বন্ধুত্বের চেয়েও বড় হয়ে উঠবে দেশের প্রতি টান। ফুটবল প্রেমীরা এখন অপেক্ষায়—মেসি কি পারবেন তার ‘বস’ বেকহ্যামের দেশের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে ফাইনালের পথে এগোতে?



