তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি। তিনি জানিয়েছেন, কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে চালু করা ইনস্টাগ্রামের ‘বিরতি নিন’ ফিচারটি ডিফল্টভাবে চালু করার আগে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ কিশোর অ্যাকাউন্টে এটি ব্যবহার করা হতো।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে চলমান মামলার দ্বিতীয় সপ্তাহের শুনানিতে সাক্ষ্য দেন মোসেরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে। তাদের অভিযোগ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে এবং তাদের আসক্ত করে তুলতে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে কলোরাডোর আইনজীবী জেসন স্লথহুবারের প্রশ্নের জবাবে মোসেরি বলেন, ‘বিরতি নিন’ ফিচারটি ডিফল্টভাবে চালু করার আগে এর ব্যবহার খুবই কম ছিল। এই ফিচার নির্দিষ্ট সময় অ্যাপ ব্যবহারের পর কিশোরদের ইনস্টাগ্রাম বন্ধ করে বিরতি নিতে উৎসাহিত করে।
মোসেরি জানান, অধিকাংশ কিশোর এই ফিচারটি চাইত না। এরপরও মেটা এটি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও স্বীকার করেন, ফিচারটি ব্যবহারের হার মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ থাকার বিষয়টি মেটা প্রকাশ করেনি।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এক ব্লগ পোস্টে মোসেরি জানিয়েছিলেন, যারা নিজেরা ‘বিরতি নিন’ ফিচারটি চালু করেছিলেন, তাদের ৯০ শতাংশের বেশি সেটি চালু রেখেছিলেন। তবে মামলার শুনানিতে স্পষ্ট হয়, এই হিসাব সব কিশোর ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। শুধু যারা নিজেরা ফিচারটি চালু করেছিলেন, তাদের মধ্যেই এই হার প্রযোজ্য।
২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রাম ‘টিন অ্যাকাউন্টস’ চালু করে। এসব অ্যাকাউন্টে নিরাপত্তা ফিচারগুলো ডিফল্টভাবে চালু রাখা হয়। পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।
তবে মেটার সাবেক কর্মীদের সাক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, ‘বিরতি নিন’ ও ‘নীরব মোডের’ মতো ফিচারগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল এবং কিশোরদের মধ্যে এসব ফিচারের ব্যবহারও খুব কম ছিল।
মেটার সাবেক প্রকৌশল পরিচালক আর্তুরো বেহার গত সপ্তাহে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তার অভিজ্ঞতায় ‘বিরতি নিন’ ফিচারটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে সেটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলো তরুণদের এমনভাবে আকৃষ্ট করে যে এর ফলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য যথাযথভাবে সংগ্রহ ও ব্যবহারের মাধ্যমে মেটা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার কাছে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিশু বা কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়নি। কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও তাদের মানসিক সুস্থতার অবনতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন পরিষ্কার প্রমাণও তাদের গবেষণায় পাওয়া যায়নি।
