
তেহরান, ৩০ জুন – বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ হলেও মেক্সিকোর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায় নিয়েছে ইরান ফুটবল দল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘ ভ্রমণ এবং নানা জটিলতার মাঝে বিশ্বকাপ খেলতে এসে তিহুয়ানা শহরে যে আন্তরিকতা তারা পেয়েছে, সেটিই এখন দলটির সবচেয়ে বড় সার্থকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের ভাগ্য আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি ইরান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা একটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়ায় তাদের পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়। পরবর্তীতে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ম্যাচের ফলাফল ইরানের বিপক্ষে যাওয়ায় নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তাদের।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থার কারণে দলটির প্রস্তুতি পর্বে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছিল। ভিসা জটিলতার আশঙ্কায় তারা অ্যারিজোনার পরিবর্তে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায় তাবু গাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ খেলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের পুনরায় মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হতো।
এই কঠিন সময়ে মেক্সিকোর স্থানীয় বাসিন্দারা ইরানি ফুটবলারদের পরম মমতায় আপন করে নেন। প্রতিটি ম্যাচের আগে ও পরে শত শত সমর্থক হোটেলের সামনে ভিড় করে খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতেন। অটোগ্রাফ নেওয়া এবং ছবি তোলার মাধ্যমে তারা সংহতি প্রকাশ করতেন।
টুর্নামেন্ট শেষে বিদায় নেওয়ার সময় অনেক সমর্থক টুপি পরে এসেছিলেন যাতে লেখা ছিল, ইরান আমাদের ভাই এবং তুমি এখন মেক্সিকান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আবেগঘন দৃশ্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের প্রতিনিধি দল মেক্সিকোর জনগণ ও গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছে, এখানকার মানুষের আতিথেয়তা তাদের নিজ দেশে থাকার অনুভূতি দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রদূত ও ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা মেক্সিকোর প্রশংসা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিকূল আচরণের বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন।
বিশ্বকাপ যাত্রায় ব্যর্থতা থাকলেও তিহুয়ানার মানুষের এই ভালোবাসা ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এস এম/ ৩০ জুন ২০২৬







