রণাঙ্গনে কি তবে সুবিধা করতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র? মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে কি তারা হারতে বসেছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আর এই জল্পনা-কল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে একটি আকস্মিক ঘটনা চলমান যুদ্ধের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সেনাপতির অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায়। কিন্তু সত্যিই কি যুদ্ধে পরাজয়ের কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো, নাকি এর পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কোনো গভীর চাল?
গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বর্তমান সেনাপ্রধান ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা র্যান্ডি জর্জকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একটি দেশের সেনাবাহিনী যখন সরাসরি সম্মুখসমরে লিপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে বাহিনীর সর্বোচ্চ কর্মকর্তাকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা সামরিক ইতিহাসে বেশ নজিরবিহীন। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি রণাঙ্গনের ব্যর্থতার দায়ভার তার কাঁধেই চাপানো হলো?
প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরের খবর কিন্তু অন্য কথা বলছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রণাঙ্গনে পরাজয়ের কোনো ঘটনা এখনও ঘটেনি; বরং লড়াই এখনও তীব্রভাবেই চলছে। সেনাপ্রধানের এই আকস্মিক বরখাস্তের পেছনে মূল কারণ হলো ক্ষমতার লড়াই ও মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব। বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান ও তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এমন একজন সেনাপতি চাইছিলেন, যিনি তাদের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল ও রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে বিনা বাক্যে একমত হবেন। বিদায়ী সেনাপ্রধান পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পেয়েছিলেন, যা তাকে বর্তমান প্রশাসনের আস্থার সংকটে ফেলেছিল।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী সামরিক বাহিনীতে এক ধরনের ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছেন। যারা সরকারের নীতির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন, তাদের একে একে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। র্যান্ডি জর্জের বিদায়ও তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইতোমধ্যেই তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান হিসেবে ক্রিস্টোফার লানিভ নামক আরেকজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে পরিচিত।
যুদ্ধে পরাজয়ের যে গুঞ্জন লোকমুখে ছড়িয়েছে, তা নিতান্তই গুজব নাকি অন্য কোনো পরিস্থিতির ইঙ্গিত—তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রণাঙ্গনের এমন স্পর্শকাতর মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে এই রদবদল যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে।





