মানবিকতা বনাম কঠোরতার প্রশ্নে বিভক্ত ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা

মানবিকতা বনাম কঠোরতার প্রশ্নে বিভক্ত ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

যু্ক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানের সময় এক কমিউনিটি কর্মীর গুলিতে মৃত্যুর ঘটনার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের মানবিকতা ও বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে—এমনটাই উঠে এসেছে রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জরিপে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত ওই জরিপে দেখা গেছে, যদিও ৯৫ শতাংশ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন, তবু অভিবাসন আইন প্রয়োগে তার প্রশাসনের আগ্রাসী কৌশল নিয়ে দলের ভেতরেই মতভেদ রয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর অভিবাসন বিষয়ে জনসমর্থন এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কি মানুষের ক্ষতি কমানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, যদিও এতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমে যেতে পারে, নাকি গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও বলপ্রয়োগে প্রস্তুত থাকা উচিত। উত্তরে প্রায় ৫৯ শতাংশ রিপাবলিকান বলেন, প্রয়োজনে মানুষ আহত হলেও গ্রেপ্তারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। বিপরীতে, ৩৯ শতাংশ মনে করেন, কম গ্রেপ্তার হলেও মানবিক ক্ষতি কমানোই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে প্রায় ঐক্যমত দেখা গেছে। জরিপে ৯৬ শতাংশ ডেমোক্র্যাট বলেছেন, অভিবাসন অভিযানে মানুষের ক্ষতি এড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, আর মাত্র ৪ শতাংশ গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নেন। কয়েকজন উত্তরদাতা প্রশ্নটির উত্তর দেননি।

রয়টার্স/ইপসোস জরিপে আরও দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে নয়জন আমেরিকান মিনিয়াপলিসে ৭ জানুয়ারি সংঘটিত গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে অন্তত কিছুটা অবগত। ওই ঘটনায় ৩৭ বছর বয়সী রেনি গুড নিহত হন। তিনি নিজের গাড়ি থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করার সময় একজন কর্মকর্তার গুলিতে মারা যান। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসন রেনি গুডকে ‘ঘরোয়া সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, তিনি গাড়ি দিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিক্ষোভকারীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে গুলির ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, গুড শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই গাড়ির দিক পরিবর্তন করেছিলেন।

ট্রাম্পের সমালোচক রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ জেসন ক্যাবেল রো বলেন, “আইসিইর সঙ্গে ঝগড়ায় একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেউই এমনটা দেখতে চায় না।” তার মতে, এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন দমনের কঠোর চেহারাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মিনিয়াপলিসে একটি ফেডারেল ভবনের সামনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইসিই কর্মকর্তাদের সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে রয়টার্স। সেখানে কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশ-ব্যাং ডিভাইস ব্যবহারের ঘটনাও দেখা গেছে।

অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্পের অনুমোদনের রেটিংয়ে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী দিক হিসেবে বিবেচিত। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নির্বাসন অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিবাসন বিষয়ে তার অনুমোদনের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছালেও সর্বশেষ জরিপে তা নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে।

সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও কমে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জানুয়ারির শুরুতে ছিল ৪২ শতাংশ। তবে এই হার এখনও তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের মেয়াদকালে অভিবাসন বিষয়ে পাওয়া গড় অনুমোদনের চেয়ে বেশি।

এই জরিপে দেশব্যাপী ১ হাজার ২১৭ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপটির ত্রুটির ব্যবধান ছিল ৩ শতাংশ পয়েন্ট।

Scroll to Top